আজ ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


ছুটির দিনেও দেশি ব্যাংকের শাখা ও এক্সচেঞ্জ হাউজ খোলা থাকবে

(আজকের দিনকাল):রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক, ব্যাংকের শাখা ও এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো ছুটির দিনেও খোলা রাখা হবে। ইতোমধ্যে সোনালী এক্সচেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রে ছুটির দিনে তাদের কিছু শাখা ও বুখ খোলা রাখছে। এছাড়া যেসব এক্সচেঞ্জ হাউজের সঙ্গে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকগুলোর চুক্তি আছে তাদের কিছু শাখাও ছুটির দিনে খোলা রাখার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। ছুটির দিনে প্রবাসীরা ব্যাংকিং সুবিধা পেলে তাদের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ হবে।

সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেছে। এর মধ্যে রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস্য সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি কমেছে। তবে তৃতীয় বৃহত্তম উৎস্য সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বেড়েছে। দেশটিতে হুন্ডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন।

কিছু দিন আগে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘুরে এসেছে। তারা দেখেছেন যেখানে প্রবাসীরা থাকেন তার আশপাশেই হুন্ডিবাজদের বিশাল চক্র রয়েছে। তারা প্রবাসীদের কাছে গিয়ে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে দ্রুত দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া প্রবাসীদের আবাস ও কর্মস্থল থেকে ব্যাংকের শাখা, বুথ বা এক্সচেঞ্জ হাউজ অনেক দূরে।

প্রবাসীরা ছুটির দিন ছাড়া অন্যদিনে ব্যাংকে যেতে পারেন না। আবার ছুটির দিনে ব্যাংক বন্ধ থাকে। এসব কারণে হুন্ডিতে রেমিট্যান্স বেশি আসছে। এজন্য প্রবাসীদের কাছে ব্যাংকিং সুবিধা বাড়াতে ছুটির দিনে বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক, ব্যাংকের শাখা ও এক্সচেঞ্জ হাউজ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সোনালী এক্সচেঞ্জের কিছু শাখা ছুটির দিনেও খোলা রাখা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বিদেশে বাংলাদেশের ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজ খোলা রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোকে বলা হয়েছে।

বিদেশি কিছু মানি এক্সচেঞ্জ হাউজের সঙ্গে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর চুক্তি আছে। ছুটির দিনে তাদের কিছু শাখা খোলা রাখার বিষয়ে আলোচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোনালী এক্সচেঞ্জের যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান কার্যালয়সহ তিনটি শাখা রয়েছে। প্রধান কার্যালয় নিউইয়র্ক, শাখা দুটি ম্যাহাটান ও জেকশন হাইটস। ৮টি বুথ হচ্ছে, ব্রুকলিন, অস্ট্রেলিয়ার, ওজন পার্ক, আটলান্টা, মিশিগান, পিটারসন, জ্যামাইকা ও ব্রোনেক্সে।

যুক্তরাজ্যে সোনালী ব্যাংক (ইউকে) লিমিটেড নামে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে। এর দুটি শাখার মাধ্যমে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করা হচ্ছে। সোনালী ব্যাংক ব্রাজের (মানি ট্রান্সফার কোম্পানি) মাধ্যমে দ্রুত অনলাইনে রেমিট্যান্স পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব না থাকলেও রেমিট্যান্সের টাকা নগদ পরিশোধের বিধান করেছে। ফলে প্রবাসীরা সোনালী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট না খুলেও রেমিট্যান্সের টাকা পাঠাতে পারছেন।

বর্তমানে ব্যাংক হিসাব খোলা বেশ জটিল বলে তারা এ উদ্যোগ নিয়েছেন। এর অংশ হিসাবে তাদের যে কোনো এক্সচেঞ্জ হাউজ বা ব্যাংকের শাখায় প্রবাসীরা রেমিট্যান্সের অর্থ জমা দিলে এক কোড নাম্বারের বিপরীতে টাকা প্রবাসীরা আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

এছাড়া বিভিন্ন দেশে সরকারি ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী শাখা (বিদেশি ব্যাংকের শাখা বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকের হয়ে কিছু কাজ করে) আছে। এগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ আছে। কিন্তু হিসাব খোলা ও ভাষাগত জটিলতার কারণে প্রবাসীরা এসব শাখার সেবা নিতে পারছে না। এ কারণে এ ধরনের শাখায় রেমিট্যান্স সেবা দিতে বাংলাদেশের কোনো কর্মকর্তা বসানো যায় কিনা তা দেখা হচ্ছে।

বিদেশে অনেক এক্সচেঞ্জ হাউজ গড়ে উঠেছে। এগুলোর মাধ্যমেও ব্যাংক রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে বেশি রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে। ইসলামী ব্যাংকের ৬১০টি প্রতিনিধিত্ব শাখা আছে। এছাড়া সিঙ্গাপুরে তাদের আইবিবিএল এক্সচেঞ্জ হাউজ রয়েছে।

জনতা ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক্সচেঞ্জ হাউজের ৪টি শাখা রয়েছে। ইতালিতে জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানির তিনটি শাখা, যুক্তরাষ্ট্রে জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানির একটি শাখা রয়েছে। তারা ৭৮টি এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে।

মালয়েশিয়াতে অগ্রণী ব্যাংকের অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউজ, সিঙ্গাপুরে অগ্রণী এক্সচেঞ্জ হাউজ প্রাইভেট লিমিটেড, কানাডায় অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউজ, অস্ট্রেলিয়ায় অগ্রণী এক্সচেঞ্জ কোম্পানি রয়েছে। তাদের বিদেশে প্রতিনিধিত্বকারী ব্যাংকের শাখা রয়েছে ৩৪৮টি। রূপালী ব্যাংকের প্রতিনিধিত্বকারী শাখা ৩৩৭টি। এসব শাখা থেকে প্রবাসীরা দেশের রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন।

রেমিট্যান্স বাড়াতে সম্প্রতি ব্যাংকে ডলারের দাম বাড়িয়ে ১০৮ টাকা করা হয়েছে। এর সঙ্গে সরকারি প্রণোদনা মিলছে আড়াই শতাংশ। ফলে রেমিট্যান্সের ডলারে মিলছে ১১০ টাকা ৭০ পয়সা। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করেও রেমিট্যান্স পাঠানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশের ভেতরে সব ধরনের ফি প্রত্যাহার করা হয়েছে। খোলা বাজারের সঙ্গে ডলারের দামের পার্থক্যও কমিয়ে আনা হচ্ছে।

Share

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ