আজ ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


মাঠে দুদলের শক্তির মহড়া

(আজকের দিনকাল):দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত দেশের রাজনীতি। ঘরে-বাইরে নিজেদের শক্তি দেখানোর প্রতিযোগিতা শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। রাজধানীতে আজ সেই শক্তির মহড়া দেবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে শান্তি সমাবেশ করবে ক্ষমতাসীনরা। সেখানে লক্ষাধিক লোকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নানা প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্র্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি আজ থেকে শুরু করছে আন্দোলনের চূড়ান্ত ধাপ। নয়াপল্টনে বড় জমায়েত করে সরকার পতনের এক দফা ঘোষণা করবে দলটি।

আ.লীগের শান্তি সমাবেশ আজ: লক্ষাধিক লোক নিয়ে শোডাউনের প্রস্তুতি

শান্তি সমাবেশের মধ্য দিয়ে আজ বড় ধরনের শোডাউন দিতে চায় আওয়ামী লীগ। বিএনপির সমাবেশের দিন রাজধানীতে লক্ষাধিক লোক সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। ইতোমধ্যে পৃথক যৌথসভা করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। প্রতিটি থানা ওয়ার্ডে দেওয়া হয়েছে দিকনির্দেশনা।

এছাড়া শান্তি সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগের সগযোগী সংগঠনগুলোও। পৃথকভাবে বর্ধিত সভা করে তারাও তাদের প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডে দিয়েছে নির্দেশনা। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে যোগ দেবেন ঢাকা জেলার সাত থানা ও তার অন্তর্গত ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরাও। সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির কর্মসূচির দিনে যেভাবে সমাবেশ করা হতো আজ তার চেয়ে আরও ব্যাপকভাবে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসূচি ঘিরে যেন কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ বেলা ৩টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম গেটসংলগ্ন পাশের রাস্তায় এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী মঞ্চ। ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনারের কাছে সমাবেশের অনুমতির আবেদনপত্র নিয়ে যান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ। তিনি জানান, বেশকিছু শর্ত সাপেক্ষে তাদের সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। রিয়াজ আরও বলেন, আমাদের প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সতর্ক ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপির আন্দোলনে তারা বাধা দেবেন না। আবার ভোটের আগে বিরোধীদের একেবারে ফাঁকা মাঠেও ছাড়া হবে না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবেন। আবার ক্ষমতাসীন দল হিসাবে তারা চান না পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হোক। আন্দোলনের নামে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা হলে তা প্রতিহতের প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে। এরই অংশ হিসাবে আজ বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। নির্বাচন পর্যন্ত এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বলেন, অন্য কর্মসূচি থেকে এটা আরও ব্যাপকভাবে করতে চাই। এবার আর আমরা ঢিলেঢালাভাবে করব না। আমাদের প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সেভাবেই দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিটি করপোরেশনে আমাদের দলের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংসদ-সদস্যদেরও এ বিষয়ে বলা হয়েছে।

একই বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের কর্মসূচিতে বড় ধরনের লোকসমাগম করতে চাই। দক্ষিণের প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সেভাবেই নির্দেশনা দিয়েছি। কেউ যেন আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়েও তাদের সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে যোগ দেবে ঢাকা জেলার সাত থানা ও তার অন্তর্গত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ের সংগঠনের কার্যালয়ে অয়োজিত বিশেষ বর্ধিত সভায় নির্বাচন পর্যন্ত কর্মসূচির রোডম্যাপ প্রস্তুতের পাশাপাশি শান্তি সমাবেশ নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ বলেন, আমাদের প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা শান্তি সমাবেশে অংশ নেবেন।

এদিকে সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোও। পৃথকভাবে বর্ধিত সভা করে তারাও তাদের প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছে। মঙ্গলবার বর্ধিত সভা করেছে আওয়ামী যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ। এতে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দিন খসরু, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, উপদপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহাজাদা, ঢাকা মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, দক্ষিণের সভাপতি মঈনুদ্দিন রানা, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।

জানতে চাইলে প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী বলেন, অতীতের দিকে তাকালে দেখবেন বিএনপির কর্মসূচি মানেই সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, জ্বালাও-পোড়াও। ফলে আন্দোলনের নামে কেউ যেন কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে আমরা সজাগ ও সতর্ক থাকব। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবলীগের প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন বলেন, সকাল থেকেই আমাদের প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডের নেতাকর্মী সজাগ ও সতর্ক থাকবে। সংগঠনের নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে যোগ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকার পতনের একদফা ঘোষণা আজ: আন্দোলনের চূড়ান্ত ধাপে বিএনপি

রাজপথের আন্দোলনের চূড়ান্ত ধাপ শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি। আজ নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠেয় সমাবেশে বিশাল শোডাউন করে সরকার পতনের একদফা ঘোষণা করবে দলটি। ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সফরের মধ্যেই দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে তারা। শুক্রবার রাজধানীতে মানববন্ধন বা মানবপ্রাচীরের কিংবা বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে আন্দোলনের সিরিজ কর্মসূচি। তবে দলের একটি অংশ একদফার ঘোষণার পর কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। একদফার পাশাপাশি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র সংস্কারে ৩১ দফার রূপরেখাও তুলে ধরবে দলটি। বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনে থাকা ৩৫টি রাজনৈতিক দলও আলাদা মঞ্চ থেকে একই ঘোষণা দেবে।

জানা যায়, সমাবেশ থেকে বিকাল ৩টায় বেশ কয়েকটি দাবি উল্লেখ করে একদফার ঘোষণা দেওয়া হবে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-‘দেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী বর্তমান ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ববাদী সরকারের পদত্যাগ ও বিদ্যমান অবৈধ সংসদের বিলুপ্তি, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে তার অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি, মিথ্যা-গায়েবি মামলা প্রত্যাহার, ফরমায়েশি সাজা বাতিল এবং সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একদফা দাবিতে রাজপথে বিরোধী রাজনৈতিক জোট ও দলগুলো যুগপৎ ধারায় ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা এবং সফল করার ঘোষণা প্রদান করছি।’

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি বলেন, ঢাকায় জনসমাবেশ ঘিরে পুলিশ নানাভাবে নেতাকর্মীদের নির্যাতন, হয়রানি করছে। তারা গায়েবি মামলা দিচ্ছে। মাইকিংয়ে বাধা দিয়েছে। কিন্তু গ্রেফতার, হয়রানি কোনো কিছুতেই নেতাকর্মীদের দমাতে পারবে না। জনসমাবেশে বিপুল তরঙ্গ ও স্রোত তৈরি হবে। আজকের সমাবেশ একেবারেই ব্যতিক্রম এবং নজিরবিহীন হবে। কারণ, মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে।

কয়েক বছর ধরে নানা দাবিতে রাজপথে আছে বিএনপি। বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। এ লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয় সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য। সিদ্ধান্ত হয় যুগপৎ আন্দোলনের। ভেঙে দেওয়া হয় ২০ দলীয় জোট। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আন্দোলন ঘিরে পরিকল্পনা সাজায়। তাতে সেপ্টেম্বরে একদফা দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ছিল। মধ্য জুলাইয়ে একদফার ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগামী নির্বাচন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে একদফার ঘোষণা কয়েকদিন এগিয়ে আনা হয়। শনিবার রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ১২ জুলাই রাজধানীতে সমাবেশ করে একদফা ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। ওইদিনেই সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ডিএমপিতে আবেদন করে বিএনপি। সোমবার পুলিশের পক্ষ থেকে মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানান নেতারা। রাতে ২৩ শর্তে লিখিত অনুমোদন দেয় ডিএমপি।

একদফার সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি চূড়ান্তে কয়েকদিন ধরে সমমনা দল ও জোটের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করে বিএনপি। মঙ্গলবার নুরুল হক নুর নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদ ও গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সঙ্গে সবশেষ বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে একদফার ঘোষণা, রাষ্ট্র সংস্কারে যৌথ রূপরেখা, পরবর্তী কর্মসূচিসহ সার্বিক বিষয়ে তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। শুরুতে বিক্ষোভ সমাবেশ, গণঅবস্থান, পদযাত্রাসহ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে তারা মত দেন। শেষদিকে ঢাকা ঘেরাও, সচিবালয় ঘেরাও, গণভবন ঘেরাও, চল চল ঢাকা চল এবং ঢাকায় টানা অবস্থানের মতো কর্মসূচির ব্যাপারে আলোচনা রয়েছে।

আজ বেলা ২টায় নয়াপল্টনে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বিএনপির সমাবেশ। তবে সমাবেশে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। স্থায়ী কমিটির সিনিয়র নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অসুস্থ থাকায় মির্জা আব্বাসকে সভাপতি করা নিয়ে আলোচনা আছে। তবে সমাবেশে কে সভাপতিত্ব করবেন, কারা সঞ্চালনায় থাকবেন, বক্তা কারা, তা মঙ্গলবার রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত হয়। সেখানে একদফা দাবি আদায়ে প্রথম কর্মসূচি হিসাবে মানববন্ধন বা বিক্ষোভ সমাবেশের পরিবর্তে একটু শক্ত কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে মত দেন কয়েক নেতা। এছাড়া সমাবেশের সার্বিক বিষয়সহ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়।

আজকের সমাবেশে বিশাল গণজমায়েতের মাধ্যমে সাংগঠনিক শক্তি জানান দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। দলটির কয়েক নেতা বলেন, বিগত সময়ে বিভাগীয় গণসমাবেশ বা অন্যান্য কর্মসূচিতে পরিবহণ বন্ধ রাখাসহ নানা বাধার পরও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘদিন পর অনেকটা বাধাহীনভাবে সমাবেশ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই আজকের সমাবেশে প্রত্যাশার চেয়ে লোকসমাগম বেশি হবে। নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় তৈরি হবে জনস্রোত। সমাবেশে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কয়েকদিন ধরে চলছে দফায় দফায় মতবিনিময়। মহানগর ছাড়াও ঢাকা বিভাগের প্রতিটি জেলা থেকে নেতাকর্মীদের সমাবেশে আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশনা। একদফা ঘোষণার সমাবেশে উপস্থিত থাকতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিজ উদ্যোগে নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসছেন। কর্মসূচি সফলে প্রস্তুতি সভার পাশাপাশি রাজধানী ও আশপাশের জেলাগুলোয় মাইকিং করা হয়েছে। বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সংগঠনের নেতাকর্মীরা আজকের সমাবেশে অংশ নেবেন।

সমাবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে শেষ করতে প্রত্যেক নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে গঠন করা হয়েছে শৃঙ্খলা কমিটি। তারা বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। সমাবেশে আসা জেলা বা ইউনিটের নেতকর্মীরা কোথায় অবস্থান করবেন, তা চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একদফা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনো নেতাকর্মী সমাবেশস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না বলে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ সমাবেশে আসার পর চলে গেলে সংশ্লিষ্ট জেলা বা অঙ্গসংগঠনের নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। এদিকে রাতেই নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়। এ সময় সেখানে কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।-যুগান্তর

Share

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ