আজ ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


সরকারের পদত্যাগ দাবিতে গণঅধিকার পরিষদের সমাবেশ-বিক্ষোভ

(আজকের দিনকাল):যুগপৎ ধারার বৃহত্তর গণআন্দোলনের এক দফা দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছ গণঅধিকার পরিষদ। বৃষ্টি উপেক্ষা করে শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে দলটির কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ শুরু হয়।

সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, গণঅধিকার পরিষদ কিভাবে চলবে তা গঠনতন্ত্রে লেখা আছে, গণঅধিকার পরিষদের রাজনীতি কি সেটা ঘোষণাপত্র ও ২১ দফা কর্মসূচিতে আছে। কাজেই না জেনে শুনে গণঅধিকার পরিষদের রাজনীতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করবেন না। কতিপয় দলছুট ষড়যন্ত্রকারীরা গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট  হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের সম্ভাবনাকে বিনাশ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। আজকের এই সমাবেশ প্রমাণ করে দুষ্কৃতকারীরা গণঅধিকার পরিষদ নিয়ে ষড়যন্ত্র করে সফল হবে না। আমাদের প্রতিটি নেতাকর্মীর সতর্ক ও সচেতন। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে ডাকসুর নির্বাচিত ভিপি হয়েও বার বার ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী দুর্বৃত্তদের হামলার পর উঠে দাঁড়িয়েছ, আপোষ করিনি।

তিনি বলেন, আজকে আমাদের কথা পরিষ্কার এই সরকার ১৪ এবং ১৮ সালে নির্বাচন নিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা-প্রহসন করেছে। প্রতারক সরকারের অধীনে অধীনে আগামীতে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আওয়াজ তুলেছে। সরকারকে পদত্যাগ করে নির্বাচনকালীন সরকারের কাছে ক্ষমতা দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বিদায় নিতে হবে। নির্বাচন হতে হবে নির্বাচনকালীন  নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দীদের মুক্তির দাবি করে সরকারকে জনগণের গণদাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে চলমান যুগপৎ আন্দোলনের সাথে সংহতি রেখে ১৮ জুলাই ঢাকায় পদযাত্রার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খান বলেন, আজকের সমাবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উপস্থিতি প্রমাণ করে অমুক-তমুকের অংশ বলে গণঅধিকার পরিষদে কিছু নাই। কাউন্সিলের মধ্যে দিয়ে গণঅধিকার পরিষদ এক ও অভিন্ন,আগের চেয়ে রাজপথে শক্তিশালী। দুষ্কৃতকারীদের অপপ্রচারে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। নির্বাচিত নেতৃত্বের মাধ্যমেই গণঅধিকার পরিষদ এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম শরিক বিএনপির বন্ধুদের বলবো আমরা আপনাদের সঙ্গে  হামলা-মামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন উপেক্ষা করে যুগপৎ ধারার বৃহত্তর গণআন্দোলনের এক দফাতে দাবিতে মাঠে আছি। দলছুট ও গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের গণঅধিকার পরিষদের নামে স্বীকৃতি দিয়ে সারা দেশে হাজার হাজার, লাখ নেতাকর্মীদের হৃদয়ে আঘাত করবেন না। গণঅধিকার পরিষদ দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নিবে না। অবৈধ সরকারের পতন না ঘটিয়ে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঘরে ফিরে যাবে না।

তিনি আরও বলেন, শুনেছি নির্বাচন কমিশন আগামী সপ্তাহে নতুন দলগুলোর নিবন্ধনের ঘোষণা দিতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের আহবান জানাবো পল্টন এসে দেখে যান গণঅধিকার পরিষদ গণঅধিকার পরিষদের জায়গাতেই আছে, গণঅধিকার পরিষদ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চলছে। তাই আপনারা কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্বকে গণঅধিকার পরিষদের নিবন্ধন দিয়ে সুবিচার করবেন।

সমাবেশে সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহরাব হোসেনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য শাকিলউজ্জামান, আব্দুজ জাহের, অ্যাডভোকেট নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, ফাতেমা তাসনিম, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ, সাধারণ সম্পাদক নাদিম হাসান, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সুহেল রানা সম্পদ প্রমুখ।

Share

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ