আজ ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সুপ্রিম কোর্টে মিছিল-সমাবেশ না করার রায় কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ

(আজকের দিনকাল):সুপ্রিম কোর্টে সমাবেশ ও মিছিল না করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায় কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই বিচারপতির পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে আসছিলো বিএনপিসহ সরকারবিরোধী আইনজীবীরা। এ নিয়ে আদালত অবমাননার আবেদন নিয়ে যায় আওয়ামীপন্থী এক আইনজীবী। ওই আবদনের উপর ১৯ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করে এই রায় কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ।

বুধবার (৩০ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি বোরহান উদ্দিন, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম।

রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, এ রায় এখন থেকে মানা না হলে তা হবে আদালত অবমাননা। কারণ আপিল বিভাগ ওই রায় মেনে চলতে বলেছে।

জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দর্শন নিয়ে বক্তব্য রাখেন আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম। বঙ্গবন্ধুর এই দর্শন কীভাবে বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিফলিত হয়েছে সেই বিষয়ে বক্তব্য দেন তিনি।

বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘এ সংবিধান হলো আমাদের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক দলিল। বঙ্গবন্ধুর যে রাষ্ট্র-দর্শন, রাজনৈতিক দর্শন, সামাজিক দর্শন—সব দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে এই সংবিধানে।’

তিনি বলেন, ‘ইদানিং সুষ্ঠু নির্বাচন, বিদেশি প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত—এসব নিয়ে তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, গণতন্ত্র চাই। বঙ্গবন্ধুর শোষিতের গণতন্ত্র কী? শুধু ভোট দেওয়াই একমাত্র গণতন্ত্র নয়। ভোট দিয়ে রাজা ও মন্ত্রীর পরিবর্তনই গণতন্ত্র নয়। যে গণতন্ত্র মানুষের ভাতের নিশ্চয়তা, বেকারের চাকরির সংস্থান ও দেশের মানুষের সার্বিক মুক্তি ঘটাতে না পারে—বঙ্গবন্ধু সে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না।’

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিৎ হবে না, যে ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এ দেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উন্মেষ ঘটে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এমন হবে না, শুধু ভোট দিয়েই এখানে জঙ্গিবাদের উত্থান হবে। সংবিধান রক্ষার যে শপথ নিয়েছি, সে অবস্থায় থেকে মুক্তিযুদ্ধের আবহ ও প্রেক্ষাপট, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ সবকিছু মাথায় নিয়ে বিচারিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, সারা বিশ্বে নির্বাচন হয় কেউ তাকিয়েও দেখে না, নির্বাচন ঘিরে সব নজর বাংলাদেশের দিকে কেন?

এমন বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী আইনজীবীরা দুই বিচারপতির পদত্যাগের দাবিতে কয়েকদিন ধরে টানা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে আসচিলেন।

এমতাবস্থায় আওয়ামীপন্থী আইনজীবী মো. নাজমুল হুদা বিএনপির আইন সম্পাদক কায়সার কামালসহ সাত আইনজীবী নেতার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন দাখিল করেন আপিল বিভাগে।

আজ বুধবার আবেদনটি শুনানির জন্য আদালতে আবেদন করেন অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা আবেদনটি অবকাশের পর শুনানি গ্রহণ করবো। এরপরই ২০০৫ সালে হাইকোর্টের দেওয়া রায় কঠোরভাবে অনুসরণের আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট বারে ভাংচুরের মামলায় সম্প্রতি আগাম জামিন নিতে হাইকোর্টে যান বিএনপির ১৮ আইনজীবী নেতা। তখন বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এ বিষয়ে বিচারপতি এম.এ মতিনের রায় রয়েছে। সেই রায় আমরা কেউই অনুসরণ করিনি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

২০০৫ সালে বিচারপতি এম.এ মতিন ও বিচারপতি এএফএম আব্দুর রহমানের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের সভা-সমাবেশ বা মিছিল করা যাবে না। বহন করা যাবে না কোন প্ল্যাকার্ড। এ ধরনের কর্মকাণ্ড করলে তা হবে বিচার প্রশাসনে হস্তক্ষেপের সামিল। এমনকি তা আদালত অবমাননাও বটে। এছাড়া কর্মসূচি দিয়ে কোন আইনজীবীকে মামলা পরিচালনা করতে বাধা দেওয়া যাবে না বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এই রায় গত ১৮ বছরেও মেনে চলেনি আইনজীবীদের বিবাদমান সংগঠনগুলো। এখন আপিল বিভাগ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলেছেন আপিল বিভাগ।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ