আজ ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা-ভোগান্তি

রংপুর বগুড়া ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে পানি

(আজকের দিনকাল):ভারতের সিকিমে বাঁধ ভেঙে বুধবার দুপুর থেকে তিস্তায় প্রবল বেগে পানি বাড়লেও বৃহস্পতিবার তা কমেছে। কোথাও কোথাও পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। তবে গাইবান্ধা, রংপুর ও বগুড়ার নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় গ্রামরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাইবান্ধার চরাঞ্চলের ৭ ইউনিয়ন পানিবন্দি। এদিকে বৃহস্পতিবার দিনভর বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। টাঙ্গাইল শহরের প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে পথচারীদের। এদিকে পায়রা বন্দরসহ সব সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। জেলেদের মাছধরা ট্রলার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধির খবর-

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ৭ ইউনিয়ন প্লাবিত : সুন্দরগঞ্জে বৃহস্পতিবার সকালে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ উপজেলার নদীবেষ্টিত হরিপুর, বেলকা, কাপাসিয়া, শ্রীপুর, তারাপুর, কাপাসিয়া ও চন্ডিপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, বুধবার বিকাল থেকে লোকজন ঘরবাড়ি ছাড়তে শুরু করে। অনেকে তাদের গবাদিপশু নিয়ে নৌকায় আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে স্বজনদের বাড়ি চলে গেছে। কেউ কেউ চৌকি উঁচু করে ঘরেই রয়েছে। জেলা প্রশাসনের ত্রাণ শাখার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা জুয়েল মিয়া জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় মাইকিংয়ের পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকায় শুকনো খাবারসহ বন্যার্তদের উদ্ধারে দুটি নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রংপুরে তিস্তার স্রোতে ভেঙেছে গ্রামরক্ষা বাঁধ : রংপুরের গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের ইছলি চরে বৃহস্পতিবার ভোরে তিস্তার প্রবল স্রোতে স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি গ্রামরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভেসে গেছে। কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, বাঁধ নির্মাণ না হলে এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চাষাবাদের জমি ও বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না নাহিদ বলেন, স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত গ্রামরক্ষা বাঁধটি ভেঙে তেমন ক্ষতি হয়নি। দুই-তিনটি ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। তবে বন্যার পানিতে প্রায় ১০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

বগুড়ায় তলিয়ে গেছে ফসল ও ঘরবাড়ি : সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা, তেকানী চুকাইনগর, সদর ও জোড়গাছা ইউনিয়নের নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। এসব এলাকার কৃষক আমজাদ হোসেন, আবদুল জলিল, রুহুল আমিন, আক্কাস আলী জানান, বন্যার পানিতে তাদের রোপণ করা ধানের চারা তলিয়ে গেছে। সোনাতলার জোড়গাছা ইউনিয়নে বাঙালি নদীর তীরে নতুন হাট পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে ওই হাটের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, এবারের বন্যায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ধসে যাওয়া অংশ মেরামত করা হবে।

লালমনিরহাট : বুধবার রাতে হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৫ সেমি. ওপর ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তা বিপৎসীমার ৫৩ সেমি নিচে নেমে আসে। বেলা ৩টায় তা আরও কমে ৬৫ সেমি নিচ দিয়ে বইছিল। বৃহস্পতিবার সকালে আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথসহ স্কুলের মাঠে থৈ থৈ পানি। তবে ২-৩ ঘণ্টা পর পানি নেমে যায়। ফলে বুধবার বিকালে আশ্রয়কেন্দ্রে আসা কয়েকজনকে তাদের গবাদিপশু নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে দেখা গেছে। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, পানি কমেছে, তবে আবার বাড়তেও পারে। আমরা সার্বিক খোঁজখবর রাখছি।
কুড়িগ্রাম : তিস্তা অববাহিকার ঘড়িয়াডাঙ্গা ইউপি সদস্য মামুনুর রশীদ বলেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আমার এলাকার কিছু বাড়িঘরে পানি উঠেছে। তবে এখনো সবকিছু স্বাভাবিক। রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায় বলেন, তিস্তায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় নদীর অববাহিকায় মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বাররাও সজাগ রয়েছেন। ১৪টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্যাহ আল মামুন বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

টাঙ্গাইলের প্রধান সড়ক পানির নিচে : ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের নিরালা মোড় থেকে বটতলা সড়ক দেখে মনে হয়, এটি যেন ছোট খাল। পৌরসভা কার্যালয়, সদর উপজেলা ভূমি অফিস, টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাব, জেলা শিক্ষা অফিসের সামনে হাঁটুপানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া নিউমার্কেট, ভিক্টোরিয়া রোড, পার্ক বাজার, শহীদ জগলু রোড, আদালতপাড়া, থানা পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রাইভেটকার চালক রুস্তম আলী বলেন, বৃষ্টির পানির সঙ্গে ড্রেনের নোংরা পানি মিশে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাস্তার পানিতে কয়েকজন হোঁচট খেয়ে পড়ে গেছে।

সদর উপজেলার বাউসা গ্রামের রিকশাচালক লতিফ মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারণে যাত্রী নেই। একদিকে বৃষ্টিতে ভিজতে কষ্ট হচ্ছে, অপরদিকে আয়ও নেই।

নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : নাচোলের সদর ইউপির গোপালপুর পাখি পল্লীর পাশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫টি পরিবার বুধবার রাত থেকে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নাচোল থানার ওসি মিন্টু রহমান তাদের ৫ কেজি করে ত্রাণসামগ্রী দিয়েছেন।

অভয়নগর (যশোর) : অভয়নগর উপজেলাসহ নওয়াপাড়া পৌরসভার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। নওয়াপাড়া শহরের বেঙ্গলগেট এলাকার অনেক বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকেছে। নওয়াপাড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মহাকাল গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ মাহফুজা আক্তার পিয়া জানান, ১নং ওয়ার্ডের ভাঙ্গাগেট ব্রিজ সংলগ্ন মনো ফকিরের বাড়ি এলাকায় ঘরে ঘরে পানি। অন্তত শতাধিক বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। চরম ভোগান্তিতে দিন কাটছে তাদের।

মুলাদীতে রাস্তা ভেঙে তিন গ্রামে দুর্ভোগ : বরিশালের মুলাদীতে প্রবল বৃষ্টি ও পানির স্রোতে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন তিন গ্রামের মানুষ। সোমবার রাতে মুলাদী সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরডাকাতিয়া গ্রামের মাদ্রাসার কাছে রাস্তা ভেঙে যায়। ফলে দক্ষিণ চরডাকাতিয়া, কুতুবপুর ও ভাঙারমোনা গ্রামের বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন। দক্ষিণ চরডাকাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেকান্দার আলী জানান, প্রতিদিন তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন।

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) : ২৪ ঘণ্টায় উপজেলায় ১৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এতে কলাপাড়া-কুয়াকাটার সর্বত্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তলিয়ে গেছে অনেক মাছের ঘের, পুকুর ও আমন ধানের খেত। পানিতে ডুবে আছে নিচু এলাকায় বসবাসকারী অনেকের ঘরবাড়ি। এদিকে পায়রা বন্দরসহ সব সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।

পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছায় শিবসা, কপোতাক্ষ ও বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে। লস্কর, গড়ইখালী ও দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন, আব্দুস ছালাম কেরু ও রিপন মন্ডল জানান, প্রাথমিভাবে ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।-যুগান্তর

Share

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ