আজ ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


দেশে প্রথম সময় নিয়ন্ত্রিত ‘অগ্নিবোমার’ অস্তিত্ব

(আজকের দিনকাল):বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ডাকা হরতালের দিন বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে কেরানীগঞ্জ থেকে দিশারী পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। সেটি বাবুবাজার ব্রিজের ওপর পৌঁছালে যাত্রীরা পেছনের সিটের দিকে বোমাসদৃশ বস্তু দেখতে পান। সেটি থেকে তখন ধোঁয়া উড়ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। বোমা নিষ্ক্রিয় করতে ডাক পড়ে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল বিভাগের সদস্যদের। উদ্ধার করা সেই বোমা পরীক্ষায় মেলে ভয়ংকর তথ্য। এটি দূর নিয়ন্ত্রিত অগ্নিবোমা বা টাইম পেট্রোল বোমা! পুলিশের বোমা বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে এই প্রথম এ ধরনের বোমার অস্তিত্ব মিলল, যা চিন্তার বিষয়।

এর আগে দেশে বিভিন্ন সময়ে স্প্লিন্টার ভরা সময় নিয়ন্ত্রিত বোমা বা টাইম বোমার অস্তিত্ব মিলেছে। যেটি টাইম বোমা হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে কোমলপানীয়র কাচের বোতলে হাতে তৈরি পেট্রোল বোমাও উদ্ধার বা ব্যবহার হয়েছে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। তবে এবারই প্রথম সময় নিয়ন্ত্রিত অগ্নিবোমা বা টাইম পেট্রোল বোমা পাওয়ার কথা জানাল পুলিশ। এই বোমায় স্প্লিন্টার বা বিস্ফোরকের পরিবর্তে পেট্রোল, অকটেন বা ডিজেলের মতো দাহ্য বস্তু থাকে। নির্দিষ্ট স্থানে গোপনে রেখে আসার পর এটি বেঁধে দেওয়া সময়ে আগুন ধরিয়ে দেয় লক্ষ্যবস্তুতে।

কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, বাসটি (ঢাকা মেট্রো ব ১৩-০৩৭০) বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বাবুবাজার ব্রিজের ওপর উঠলে যাত্রীরা পেছন দিকের সিটে ধোঁয়া দেখতে পান। আতঙ্কিত হয়ে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে যাওয়ার পর খালি গাড়িটি চালক ও সহযোগী নয়াবাজার ঢালে পুলিশ চেকপোস্টের কাছে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ গিয়ে তাতে বোমা দেখতে পায়। এরপর বোম্ব ডিসপোজাল বিভাগের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে সেটি তারা উদ্ধার করে নিয়ে যান।

সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার পর বাসের সামনে থেকে পেছনের দিকে ষষ্ঠ সারির সিটের নিচে একটি কাগজের ব্যাগে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসের (আইইডি) অস্তিত্ব পায়। বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা আইইডিটি নিষ্ক্রিয় করে আলামত সংগ্রহ করেন। এরপর আলামতগুলো সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

সিটিটিসির একজন বোমা বিশেষজ্ঞ বলেন, ওই বোমায় উচ্চমাত্রার কোনো বিস্ফোরকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। টাইম বা সময় নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি টেবিল ঘড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। যাতে সংযুক্ত ছিল ১ দশমিক ৫ ভোল্টের ব্যাটারি। সেফটি সুইচ বা আরমিং সুইচ হিসেবে ছোট সাইজের লাল-কালো রঙের রকার সুইচ ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া দুটি ইলেকট্রিক তার দিয়ে একটি দিয়াশলাইয়ের কাঠি মুড়িয়া ইম্প্রোভাইজড ডেটোনেটর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা ৩ দশমিক ৭ ভোল্টের লিথিয়াম ইয়ন ব্যাটারির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

ওই কর্মকর্তা বলেন, কাগজের বাক্সটিতে দিয়াশলাই ছাড়া অন্য কোনো উচ্চমাত্রার বিস্ফোরকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে এতে একটি পেট্রোলভর্তি ছোট পলিথিন ব্যাগ পাওয়া গিয়েছে। সেই হিসেবে অনুমান করা যায়, শুধু সময় নিয়ন্ত্রিত অগ্নিকাণ্ডের উদ্দেশ্যে এই আইইডি প্রস্তুত করা হয়েছে।

সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত উপকমিশনার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) রহমত উল্লাহ চৌধুরী বলেন, উদ্ধার করা আইইডি একটি টাইম ইনিশিয়েটেড আইইডি। এর আগে সোমবার (২০ নভেম্বর) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কদমতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একই ধরনের একটি আইইডি উদ্ধার করা হয়েছিল। আগেরটার সঙ্গে বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) উদ্ধার করা আইইডির হুবহু মিল পাওয়া গেছে, যা একই সংগঠন বা ব্যক্তি এই আইইডি তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পুলিশের এই বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ বলেন, উদ্ধার হওয়া আইইডির গঠনশৈলী ও অন্যান্য দিক বিশ্লেষণ করে তারা ধারণা করছেন, বোমা তৈরির বিশেষজ্ঞ কারিগর দিয়ে এই ডিভাইসটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

সিটিটিসির অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন, সময় নিয়ন্ত্রিত এ ধরনের পেট্রোল বোমা বা অগ্নিবোমা সাধারণত উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা লক্ষ্যবস্তুতে আগুন ধরাতে গোপনে রেখে আসে। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে এ ধরনের ডিভাইস বোমা মারাত্মক ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Share

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ