আজ ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


২০১৮ সালে রাতে ভোটের প্রমাণ দিন: আইনজীবীকে হাইকোর্ট

(আজকের দিনকাল):সংসদ নির্বাচনের তফশিল স্থগিত চেয়ে রিটের শুনানিতে আইনজীবীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বলেছেন, ২০১৮ সালে রাতে ভোটের কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকলে দিন। ধারণার ওপর ভিত্তি করে কথা বলবেন না। এসব বক্তব্য রাজনৈতিক মঞ্চে দেবেন। আদালতে প্রমাণ ছাড়া কথা বলবেন না। রাতে ভোটের বিষয়ে কি কোনো মামলা হয়েছে?

জবাবে ওই আইনজীবী বলেন, রাতে ভোট হয়েছে, আমি নিজেই সাক্ষী। কারণ, ওই নির্বাচনে আমি প্রার্থী ছিলাম।

সোমবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে রিটের আদেশের জন্য ১০ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

বর্তমানে একটি সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় আরেকটি সংসদ নির্বাচনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট দায়ের করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিবসহ ৭ জনকে বিবাদী করা হয় রিট আবেদনে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউনূস আলী আকন্দ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। তাকে সহযোগিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

এর আগে রোববার প্রথম দিনের শুনানি শেষে সোমবার দিন ধার্য ছিল। শুনানির একপর্যায়ে রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, ২০১৮ সালে সংসদ-সদস্য প্রার্থী ছিলাম। রাতে ভোট হয়েছে।

আদালত বলেন, রাতে যে ভোট হয়েছে, এ বিষয়ে কি মামলা হয়েছে? কোন তথ্যপ্রমাণ বা সাক্ষী আছে? এসব বক্তব্য পাবলিক প্লেসে দেবেন?

তখন ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, রাতে যে ভোট হয়েছে সাক্ষী আমি ও ১৮ কোটি জনগণ। সাবেক সংসদ-সদস্য রাশেদ খান মেনন নিজেও নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।

আইনজীবী বলেন, তফশিল স্থগিত চেয়েছি। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আরও পাঁচ মাস সময় রয়েছে। অথচ তড়িঘড়ি করে নির্বাচন করতে চাইছে কমিশন। অনেক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। এ অবস্থায় নির্বাচন প্রিম্যাচিউরড।

ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন করতে হলে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, মন্ত্রিসভা ছোট করতে হবে। এসবের কিছুই করা হয়নি।

হাইকোর্ট বলেন, এক সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে তো ২০১৮ সালে ‘সেটেল’ হয়ে গেছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় গণমাধ্যমকে বলেন, শুনানির পর আদালত ১০ ডিসেম্বর আদেশের জন্য রেখেছেন। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে শুনানি করতে পারবে। আর রিটকারী আইনজীবীকে বলা হয়েছে, তফশিল স্থগিতের পক্ষে আর কোনো যুক্তি থাকলে তা লিখিত আকারে দাখিল করতে।
২৮ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মো. ইউনূছ আলী আকন্দ। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন পেছানোর সুযোগ রয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করার কথা বলেন নোটিশদাতা। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে পরদিন হাইকোর্টে রিট করেন এ আইনজীবী।

এতে ১৫ নভেম্বর ঘোষিত তফসিলের বৈধতা প্রশ্নে রুল চাওয়া হয়। প্রাথমিক শুনানির পর আদালত রুল জারি করলে সে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী তফশিল ঘোষণায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের নির্দেশনাও চাওয়া হয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব, সংসদ সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসিকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

Share

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ