(আজকের দিনকাল): নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের পর ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষকের নাম আমান উল্লাহ সাগর। তিনি হজরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক।
জানা গেছে, শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হজরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।
একই মাদরাসাতে তার স্ত্রীও প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। একই এলাকার বাসিন্দা স্বামীহারা নারীর একমাত্র মেয়ে ওই ভুক্তভোগী শিশুটি। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচালিকার কাজ করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় লেখাপড়া করতো।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখান ওই মাদরাসা শিক্ষক। পরে এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে ওই শিক্ষক ছুটি নিয়ে যাওয়ার পর আর মাদরাসায় আসেননি বলে জানিয়েছেন ওই মাদরাসার আরেক শিক্ষক। আর ভুক্তভোগী শিশুটি গত ৫ মাস ধরে মাদরাসায় আসা বন্ধ করে দিয়েছে।
পরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হয়। তখন তার মা সিলেট থেকে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন বিষয়টি।
পরে গাইনি বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি জানান, মেয়েটি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরীক্ষা করে দেখা যায়, বাচ্চার বয়স প্রায় ২৭ সপ্তাহের বেশি (প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ মাস)। শিশুটির বয়স ১১ বছর, উচ্চতা ৪.৫ ফুটের কম এবং ওজন ২৯ কেজি।
এ নিয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। আসামিকে ধরার চেষ্টা চলছে।-ডেস্ক