(আজকের দিনকাল): যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমীরাতসহ ৯টি দেশে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে ওইসব দেশে অর্থ পাচার করে বিপুল সম্পদ গড়েছেন তিনি। পাচার অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুদক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ওইসব দেশ থেকে পাচার অর্থ ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সনদের আওতায় দেশগুলোতে মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে ১টি, যুক্তরাষ্ট্রে ২টি, ও সংযুক্ত আরব আমীরাতের দুবাইতে ১টি এমএলএআর পাঠানো হয়েছে। সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভারত, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনামে শিগগির এমএলএআর পাঠানো হবে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে সম্পদ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় জোর দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুদকসহ সরকারের কতিপয় সংস্থা যৌথভাবে ১১ প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। এর মধ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ আছেন। দুদকের বিশেষ টিমের কাজ শুরু হওয়ার পর জাবেদ বিদেশের অনেক সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছেন। ওই ৯ দেশে জাবেদের ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলেও বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাকি প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের সম্পদের একটি অংশ বাংলাদেশের আদালতের আদেশ অনুযায়ি জব্দ করেছে ওই দেশের সরকার।
দুদকের অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, ৯টি দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্যে জাবেদের সম্পদ বেশি। দেশটিতে ফ্ল্যাটসহ ৮০৬টি স্থাবর সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। ওই ৯টি দেশে ১ হাজার ১২২টি ফ্ল্যাট, আবাসিক বাড়ি, প্লট ও একাধিক আবাসন কোম্পানি রয়েছে। কম্বোডিয়ায় ১১৬টি, দুবাইতে ৭৩, মালয়েশিয়ায় ৪৭, যুক্তরাষ্ট্রে ৪১, থাইল্যান্ডে ২৪, ভারতে ১১, ভিয়েতনামে ৪টি এবং ফিলিপাইনে ২টি প্লট, বাড়ির খোঁজ মিলেছে।
সূত্র জানায়, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডরিংয়ের অভিযোগে এ পর্যন্ত জাবেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ১২টি মামলা করা হয়েছে। আরও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামে জাবেদের করপোরেট অফিসে অভিযান চালিয়ে ২৩ বস্তা গোপন কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সবই বিদেশে অর্জিত সম্পদের নথিপত্র।
যুক্তরাজ্যে জাবেদের ৮০৪টি ফ্ল্যাট–বাড়ির মূল্য ৮ হাজার ৫১০ কোটি, কম্বোডিয়ায় ১১১টি ফ্ল্যাট ও প্লটের মূল্য ৩৮০ কোটি, দুবাইতে ৭৩টি ফ্ল্যাট–বাড়ির মূল্য ৭৬১ কোটি, যুক্তরাষ্ট্রে ৪১টি ফ্ল্যাট–বাড়ির মূল্য ৫৬০ কোটি, মালয়েশিয়ায় ৪৭টি ফ্ল্যাটের মূল্য ৩১৩ কোটি টাকা। থাইল্যান্ডে ২৪টি ফ্ল্যাটের মূল্য ১৯০ কোটি, ভিয়েতনামে ৪টি ফ্ল্যাট–বাড়ির মূল্য ১৫৯ কোটি টাকা, ভারতে ১১টি ফ্ল্যাটের মূল্য ১৩ কোটি টাকা।
যৌথ অনুসন্ধান টিমের প্রধান ও দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের টিম জাবেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ অনুসন্ধান, তদন্ত করছে।-ডেস্ক