নুর আলম সিদ্দিক, (আজকের দিনকাল): দুর্নীতি আজ শুধু একটি শব্দ নয়, এটি সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গভীরে প্রোথিত এক জটিল বাস্তবতা। প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই দেখা যায় ঘুষ, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা অর্থ আত্মসাতের ঘটনা। প্রশ্ন উঠছে—দুর্নীতি কি কেবল ব্যক্তির নৈতিক অবক্ষয়ের ফল, নাকি পুরো ব্যবস্থার ত্রুটি?
অনেকে মনে করেন, দুর্নীতির মূল উৎস ব্যক্তি। একজন কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ কিংবা ব্যবসায়ী যখন নিজের লোভকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, তখনই দুর্নীতি জন্ম নেয়। নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও ব্যক্তিগত সততার অভাব একজন মানুষকে অন্যায়ের পথে ঠেলে দেয়। তাই ব্যক্তি যদি সৎ হন, তবে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসতে পারে।
তবে বাস্তবতা আরও গভীর। শুধু ব্যক্তি নয়, অনেক সময় পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিকে উৎসাহ দেয়। যখন কোনো কাজে অতিরিক্ত জটিলতা থাকে, স্বচ্ছতা থাকে না, জবাবদিহিতা দুর্বল হয় এবং আইনের প্রয়োগ অসম হয়—তখন দুর্নীতি সহজ পথ হয়ে দাঁড়ায়। একজন সৎ মানুষও অনেক সময় দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবেশে টিকে থাকতে হিমশিম খান।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে দেখা গেছে, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছ প্রশাসন ও কঠোর জবাবদিহিতা দুর্নীতি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ ব্যক্তি ও ব্যবস্থা—দুইয়ের সমন্বিত পরিবর্তন ছাড়া দুর্নীতি রোধ সম্ভব নয়।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কেবল আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি নৈতিকতা, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতারও প্রশ্ন। পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত সততা ও জবাবদিহিতার চর্চা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে হবে, যাতে দুর্নীতির সুযোগ কমে আসে।
সবশেষে বলা যায়, দুর্নীতি শুধু ব্যক্তির নয়, আবার শুধু ব্যবস্থারও নয়। ব্যক্তি ও ব্যবস্থার দুর্বলতার মিলিত ফলই দুর্নীতি। তাই পরিবর্তনও আনতে হবে দুই দিকেই। একটি সৎ সমাজ গড়তে হলে সৎ মানুষ যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন ন্যায়ভিত্তিক ও স্বচ্ছ রাষ্ট্রব্যবস্থা।
লেখকঃ সাংবাদিক ও সম্পাদক
ajkerdinkal@gmail