• সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
Headline
৭৪ ভোটের ৭৩টি তামিমের, হলেন বিসিবি সভাপতি পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল ও তাঁর স্ত্রীর ফাঁসির রায় মতিঝিলে দিনদুপুরে গুলি করে ‘৬০ লাখ’ টাকা ছিনতাই, টাকার পরিমাণ–উৎস ঘিরে ধোঁয়াশা পল্লবীর শিশুটির বাবার আস্থা ফিরিয়ে দিতে পেরেছি: সংসদে আইনমন্ত্রী পঞ্চগড় সীমান্তে ৬০ ঘণ্টা আটকে ১০ নাগরিক, ৪ জনের আধার কার্ডও নিয়ে গেছে বিএসএফ শরীয়তপুর কারাগারে সাজা শেষে ১৭ বিদেশি বন্দিকে পাঠানো যাচ্ছে না বহু নারী-শিশুকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ শার্শায় গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত শার্শায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: কাঠগড়ায় কাঁদলেন স্বপ্না, মারতে গেলেন সোহেলকে

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল ও তাঁর স্ত্রীর ফাঁসির রায়

Reporter Name / ০ Time View
Update : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

‎(আজকের দিনকাল): পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণা শুরু করেন এবং ১১টা ৩৫ মিনিটে রায় পড়া শেষ করেন।

রায়ে বলা হয়েছে, আসামিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। তবে দণ্ড কার্যকরের আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে। ট্রাইব্যুনাল মামলার নথি দ্রুত হাইকোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা ইচ্ছা করলে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন।

আদালত বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সাক্ষ্যপ্রমাণে শিশুকে হত্যার নির্মমতা, বীভৎসতা ও নিষ্ঠুরতার প্রমাণ মিলেছে। এ ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন হওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানাসহ তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল রোববার রায়ের তারিখ ধার্য করেন। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে। আসামিপক্ষের আইনজীবী অপেক্ষাকৃত কম শাস্তির আবেদন করেন।

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় পড়া শুরুপল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু
শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ১ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। মামলাটি দায়েরের চার দিনের মাথায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। গত মঙ্গলবার এক দিনে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

গত ২৪ মে বিকেলে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। একই দিন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

রায়ের অপেক্ষায় পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলা, এজলাসে আসামি সোহেল-স্বপ্নারায়ের অপেক্ষায় পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলা, এজলাসে আসামি সোহেল-স্বপ্না
মামলার বিবরণে বলা হয়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবীর একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার বেডরুম থেকে আট বছরের ওই শিশুর মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কাঁধ থেকে দুই হাত আংশিক বিচ্ছিন্ন ছিল। একটি রঙের বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় ২০ মে ভোরে ওই শিশুর বাবা পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ঘটনাস্থল থেকে আটক সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঘটনার দিনই আটক সোহেল রানাকেও এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ২০ মে আদালতে হাজির করা হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয়, যে বাসা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তার পাশের বাসায় বাদীর পরিবার থাকত। সেদিন সকাল সাড়ে ৯টায় বাসা থেকে বের হলে তাকে পাশের বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে তাকে ধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: বিচার শুরুর ৫ কার্যদিবসে আজ রায়পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: বিচার শুরুর ৫ কার্যদিবসে আজ রায়
গত ২০ মে সোহেল রানা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ওই শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তিনি ইয়াবাসেবী। ঘটনার দিন দরজা খুলে সিঁড়িতে তাকে দেখে নিজের বাসায় ডেকে নেন। পরে জোর করে তাকে টয়লেটে নিয়ে মুখে ওড়না পেঁচিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে হত্যা করা হয়। লাশ গুম করতে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং কাঁধ থেকে হাত কেটে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এ সময় দরজায় কড়া নাড়া হলে তাঁর স্ত্রী তাঁকে পালাতে সহায়তা করেন। পরে তিনি একটি রেঞ্জ দিয়ে জানালার গ্রিল কেটে বাসা থেকে পালিয়ে যান।

রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ মামলা পরিচালনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা