• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
Headline
নারী এমপিরা সংসদকে প্রাণবন্ত করবেন: মির্জা ফখরুল মানানসই হয়নি পুলিশের নতুন পোশাক, শার্ট থাকবে আগের মতো প্যান্ট হবে খাকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৮ প্রবাসী জুলাইযোদ্ধাকে ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রুল ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে যে ৫ খাবার এড়িয়ে চলবেন বিসিবি ৬৫০ দিলেও কর্মীরা পান ৩০০ টাকা, দুর্নীতি দেখে ক্ষুব্ধ তামিম সাত দিনের প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন ১০০ শিক্ষক, তালিকা প্রকাশ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিএনপির সংরক্ষিত নারী এমপিদের শ্রদ্ধা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে প্রকল্প অনুমোদন সহজের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা প্রতি মাসে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে পাবেন: কৃষিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা আলোচনায় অচলাবস্থা, বিরক্ত হয়ে ইরানকে খেপাতে ফাঁদ পাতছেন ট্রাম্প

পরামর্শক কমিটির মাধ্যমে হবে গণমাধ্যম কমিশন আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী

Reporter Name / ২ Time View
Update : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

(আজকের দিনকাল):পরামর্শক কমিটির মাধ্যমে গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া সরকার শুরু করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠনের আগে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে। গতকাল রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রধান সহযাত্রী স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম’ এই প্রতিপাদ্যে এবারের দিবসটি পালন করা হয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম একটি বিশাল ও জটিল ইকোসিস্টেম। তাই সরকার একা কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায় না। আমরা একজন সর্বজনগ্রাহ্য গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞকে সামনে রেখে সব পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করবো। এই কমিটির সুচিন্তিত মতামতের ভিত্তিতেই একটি স্থায়ী গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে। যার মাধ্যমে গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, তথ্যের অবাধ সরবরাহ এখন আর সমস্যা নয়, বরং তথ্যের সঙ্গে নিজের রঙের মাধুরী মিশিয়ে বা অপতথ্য ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অ্যালগরিদমের এই যুগে অপতথ্য রোধে আমাদের বৈশ্বিক প্ল্যাটফরম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা, তবে সেই তথ্য অবশ্যই দায়িত্বশীল ও ‘ক্লিন ইনফরমেশন’ হতে হবে।’

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিনা অপরাধে কোনো সাংবাদিক কারাগারে থাকবে না। নীতিগতভাবে সকল সাংবাদিককে আইনের আওতায় পেশাগত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে সরকার। মানহানি মামলাসহ অন্যান্য আইনি জটিলতাগুলো প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় আনা হবে।’ সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম, নিউজপেপার ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাটকো’র মহাসচিব ও একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল। আঞ্চলিকসংবাদ প্রতিবেদন

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম। পিআইবি’র মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন মজুমদার (সবুজ) এবং সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল), চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদা বেগমসহ তথ্য মন্ত্রণালয়, তথ্য অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার আগে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তবে স্বাধীনতার সঙ্গে জবাবদিহিতারও প্রয়োজন রয়েছে। অধিকারের সঙ্গে কর্তব্য ও দায়বদ্ধতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অনেক ক্ষেত্রে এখতিয়ার ও সীমাবদ্ধতার তোয়াক্কা না করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্য ও যোগাযোগের বিজ্ঞানে উপাত্ত বা ‘ডেটা’ ছাড়া কোনো তথ্যই পূর্ণাঙ্গ নয়। বর্তমানে পত্রিকার ছাপা সংখ্যা এবং টেলিভিশনের টিআরপি নির্ধারণে যে পদ্ধতিগুলো চালু আছে, সেগুলো অনেকটা প্রশ্নবিদ্ধ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্র, সমাজ এবং অংশীজনরা এক ধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। আমরা এই ডিজিটাল যুগে মেকানিজম পরিবর্তন করে একটি গ্রহণযোগ্য ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান বের করবো।

তিনি বলেন, সংবাদপত্র শিল্পে ওয়েজবোর্ড এবং শ্রম আইন অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। মানহানি মামলাসহ অন্যান্য পেশাগত আইনি জটিলতাগুলো প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে পেশাদার সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও একটি শক্তিশালী ডাটাবেজ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে হলে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আঞ্চলিকসংবাদ প্রতিবেদন

নিউজপেপার ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, অনুগত সাংবাদিকতা গণমাধ্যম ও জবাবদিহিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। জবাবদিহিতা আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি।

তিনি বলেন, অনুগত সাংবাদিকতা সরকারকে কোনো অবস্থাতেই মাইলেজ দিবে না। সরকার এখন যেভাবে স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন, তা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, রাজনীতি ঠিক না হলে সাংবাদিকতাও ঠিক হবে না। রাজনীতি তো ঠিক নেই। দেশটা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। এই বিভক্ত সমাজে কোনো অবস্থাতেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব না।

ঢালাও অভিযোগে সাংবাদিকদের কারাগারে আটকে রাখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, অপরাধী হলে অপরাধের বিচার হতে পারে। কিন্তু হত্যার ঢালাও অভিযোগ দিয়ে এভাবে আটকে রাখা মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের চেতনার পরিপন্থি। রাজনৈতিকভাষ্য প্ল্যাটফর্ম

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের প্রধান সম্পদ হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই সাংবাদিকের মূল কাজ। গণমাধ্যমের পরাজয় মানে জনগণের পরাজয়, আর জনগণের পরাজয় মানে রাষ্ট্রের পরাজয়। তাই কোনো অবস্থাতেই গণমাধ্যমকে পরাজিত হতে দেয়া যাবে না। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাটকো’র মহাসচিব আব্দুস সালাম বলেন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বর্তমানে চরম আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে। এই শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের পক্ষ থেকে ‘পলিসি সহায়তা’ এবং দ্রুত ‘ডিজিটালাইজেশন’ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।-ডেস্ক


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা