• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
Headline
নাটোরে ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা, স্ত্রী-ছেলে আটক নারী এমপিরা সংসদকে প্রাণবন্ত করবেন: মির্জা ফখরুল মানানসই হয়নি পুলিশের নতুন পোশাক, শার্ট থাকবে আগের মতো প্যান্ট হবে খাকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৮ প্রবাসী জুলাইযোদ্ধাকে ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রুল ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে যে ৫ খাবার এড়িয়ে চলবেন বিসিবি ৬৫০ দিলেও কর্মীরা পান ৩০০ টাকা, দুর্নীতি দেখে ক্ষুব্ধ তামিম সাত দিনের প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন ১০০ শিক্ষক, তালিকা প্রকাশ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিএনপির সংরক্ষিত নারী এমপিদের শ্রদ্ধা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে প্রকল্প অনুমোদন সহজের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা প্রতি মাসে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে পাবেন: কৃষিমন্ত্রী

নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের আলোচনা সভা,স্বাধীন সাংবাদিকতা ছাড়া গণমাধ্যম অসম্পূর্ণ

Reporter Name / ০ Time View
Update : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

(আজকের দিনকাল):স্বাধীন সাংবাদিকতা ছাড়া একটি সুস্থ ও বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে না। তথ্যপ্রবাহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে ভুয়া খবর ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ এবং সচেতনতা জরুরি।

গতকাল বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। যৌথভাবে আলোচনা সভার আয়োজন করে নিউজপেপার্স ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আঞ্চলিকসংবাদ প্রতিবেদন

আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, দেশে একটি গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যম কমিশন গঠনে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, কমিশনের প্রথম ধাপে একটি পরামর্শ কমিটি গঠন করা হবে। যেখানে সাংবাদিক, সম্পাদক, মালিক ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা যুক্ত থাকবেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের বিস্তার এবং প্রচলিত গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সমন্বিত কাঠামো জরুরি।

প্রস্তাবিত কমিশন এই দুই ক্ষেত্রেই নীতিগত দিকনির্দেশনা দিতে পারবে বলে আশা করি। ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই খাতে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মূলত টেক জায়ান্টদের হাতে। ফলে জাতীয় পর্যায়ে সমাধান খোঁজা জটিল। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমকে কীভাবে দায়বদ্ধতার আওতায় আনা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউএজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীরের সভাপতিত্বে, পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনা সভায় নোয়াব সভাপতি ও মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, সিনিয়র সাংবাদিক কামাল আহমেদ, প্রথম আলো’র নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, সময়ের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম বক্তব্য রাখেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আমরা প্রচণ্ড চাপের মুখে আছি। অপতথ্য ছড়ানো একটা মহামারি আকার ধারণ করেছে। এটা রোধে কী করা যায় তথ্যমন্ত্রী পরামর্শ চেয়েছেন। এটা সামাজিক আন্দোলন ছাড়া অসম্ভব। প্রত্যেকের বাড়িতেই একজন সাংবাদিক। যেটা দেখছে সেটা লিখে দিচ্ছে বা প্রচার করছে। এটা আইন দিয়ে রোধ করা সম্ভব না। গণমাধ্যমকর্মী যারা জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আছেন তাদের প্রশিক্ষণ দিলে, সচেতন করলে মানুষ সচেতন হতে পারে। না হলে বিপদ।

তিনি আরও বলেন, বিপদ শুধু আমাদের না। সকলেরই। প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট কেউই নিরাপদ নন। আমাদের সামনে বিপদ আরও বেশি অপেক্ষা করছে। এটার জন্য দায়ী ‘ভিউ’ প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা যদি না থামে কোনো অবস্থাতেই রেহাই পাবেন না। আর মেইনস্ট্রিম অসহায়। মানুষ তরতাজা খবর দেখছে এবং বিশ্বাস করছে। এক ঘণ্টা বাদে মেইনস্ট্রিমের বদৌলতে জানবে এটা ভুয়া খবর। এর কারণে দেশে দেশে, দলে দলে, ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে যুদ্ধও হতে পারে।

নোয়াব সভাপতি বলেন, আড়াই মাসের সরকার। সাধুবাদ জানাই এখনো ডিজিএফআই থেকে ফোন, তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে ফোন এসব চালু করে নাই। তবে অপ-তথ্য থেকে বাঁচতে সম্মিলিত প্রয়াস দরকার। মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিক এবং যারা অনলাইনের প্রতিনিধি তাদেরকেও যুক্ত করা উচিত। যতো বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন; ততো বেশি অবস্থার উন্নতি হতে পারে।

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনম বলেন, মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে আমি অনুরোধ করবো, এই দিবসটা যাতে আমরা হৃদয় থেকে অনুভব করি। সংবিধানে বলা আছে, জুডিশিয়ারি এবং প্রেসের পেশায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা যাবে না। যে দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা সুপ্রতিষ্ঠিত সেই দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত। এই কারণে সংবিধান আমাদের পেশাকে নিরাপত্তা দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রশ্ন করতে হবে- আমরা কী সঠিক সাংবাদিকতা, মূল্যবোধভিত্তিক, দেশের ভালো চেয়ে এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সাংবাদিকতা করছি কি না? নাকি আমরা বিভিন্ন ধরনের গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য সাংবাদিকতা করছি? আধুনিক প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যেমন আমাদের জন্য একটা থ্রেট একইসঙ্গে আমাদের কাজকে অনেক ভাবে সাহায্য করতে পারে। এআই তথ্য দিয়ে রিপোর্টকে আরও সমৃদ্ধ করে।

তিনি বলেন, কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে যেন আমরা সাংবাদিকতা না করি। সবসময় সমাজের স্বার্থকে তুলে ধরি। সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে সম্পাদক ও মালিকদের জন্য পৃথক দু’টি আচরণবিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মালিকরা হস্তক্ষেপ করলে মিডিয়া মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুতি হবে।

প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ বলেন, বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের অবনতি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা দেখেছি যে, মিডিয়া আক্রান্ত হয়েছে। তার আগে দীর্ঘ দেড় দশকেও মিডিয়া বারবার আক্রান্ত হয়েছে। সাংবাদিকরা গুম হয়েছেন। এমনকি জুলাইয়ের যে ছাত্র গণ-অভ্যুত্থান, সেখানেও ছয়জন সাংবাদিকের রক্ত মিশে আছে। ঝুঁকিপূর্ণ পেশা সাংবাদিকতা সেটাকে মেনে নিয়ে দেশপ্রেম থেকে আমরা এখানে এসেছি।

সাইবার অপরাধের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ শুধু সমাজকে নয়, রাষ্ট্রকেও আক্রান্ত করছে। অশ্লীলতার ছড়াছড়ি, ভাষাগত, শিষ্টাচারগত- সমস্ত কিছুর অবনতি হচ্ছে। নারীদেরকে নিয়ে বুলিং হচ্ছে।

সাইবার অপরাধ সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে তা কমানোর পথ বের করা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এটি শুধুমাত্র সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। সকল অংশীজনকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এইজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা একটি দীর্ঘ নিরন্তর লড়াই এবং রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থানের পরের সরকার। এই সরকার জন-প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার। সরকারের বয়স খুব কম, তাই জোর করে অতিরিক্ত সমালোচনা করারও কিছু নেই।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য, আমরা সবাই অন্তত কিছুদিন পরীক্ষামূলকভাবে সরকারের সঙ্গে এনগেজমেন্টে থাকতে চাই। আমরা সরকারকে এনগেজ করতে চাই। কারণ ১৭ বছর যে পার্টি বাইরে ছিল, তাদের নেতারা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জানেন- মিডিয়ার ওপর চাপ থাকলে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করা সম্ভব হয় না। জীবন ও সংগ্রামের ঝুঁঁকি নেয়া ছাড়া। যখন তা সম্ভব হয় না, তখন বিরোধী দল বা অন্য শক্তিগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও ‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস’-এর সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বলেন, বাংলাদেশে সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার ওপরও নির্ভর করে। সভায় দৈনিক সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম, আজকের পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।-ম,জমিন


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা