(আজকের দিনকাল):শরীয়তপুর জেলা কারাগারে দীর্ঘদিন যাবত বন্দি ছিল ২০ জন বিদেশি। তাদের মধ্যে ৩ জন বিভিন্ন সময় মারা যান। তাদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মরচুয়ারিতে বা হিমাগারে রেখে লাশ সৎকার করতে সরকারের খরচ হয় ২৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা।
বাকি ১৭ বন্দির বিভিন্ন মেয়াদে সাজা শেষ হলেও তাদের পুরাপুরি পরিচয় না থাকা ও ভারতীয় দূতাবাসে চিঠি দিয়েও কোনো সাড়া না পাওয়ায় তাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না।
শরীয়তপুর জেলার কারাগারের জেলার পাপিয়া সুলতানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পদ্মা সেতু এলাকা থেকে বিভিন্ন সময় ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন ২০ জনকে গ্রেফতার করে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা ও জাজিরা থানা পুলিশ। তাদের নাম-সর্বস্ব ঠিকানা দিয়ে রড, বাঁশ চুরি ও পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার হুমকি দেখিয়ে শরীয়তপুর আদালতে পাঠায়। শরীয়তপুর আদালতের বিচারক তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে। সেই সাজা তারা খেটে শেষ করে বর্তমানে তারা আরপি বা রিলিজ প্রিজনার হিসেবে শরীয়তপুর কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
এর মধ্যে ভারতীয় নাগরিক সতেন্দ্র কুমার ও বাবুল সিং গত ২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মারা যায়। তাদের দীর্ঘদিন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়। এ সময় বিভিন্নভাবে বারবার চিঠি চালাচালি করে লাশ নিজ দেশে পাঠানো সম্ভব হয়নি। এর ২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি সৎকার করা হয়।
পরবর্তীতে রাজন নামে আরও একজন ভারতীয় নাগরিক ২০২৫ সালের ২৯ মে শরীয়তপুর কারাগারে মারা যান। পরবর্তীতে তাকে ২৫ সালের ২ ডিসেম্বর মনোহর বাজার চিতাসালে সৎকার করা হয়। এ তিনজন ভারতীয় নাগরিকের লাশ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের হিমাগারে রাখা ও সৎকার করতে শরীয়তপুর জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের ২৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়।
এখনও শরীয়তপুর জেলা কারাগারে ১৪ জন পরুষ ও ৩ জন নারী ভারতীয় নাগরিক বন্দি রয়েছে। তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হলেও বর্তমানে তারা সাজা খেটে শেষ কওে আরপি বা রিলিজ প্রিজনার শরীয়তপুর কারাগারে রয়েছেন। তারা ঠিকমতো খাবার দাবার গ্রহণ করেন না। জামা কাপড় পরিধান করতে চায় না। তাদের ভাষা ও ঠিকমতো বোঝা যায় না। তাই তারা নানারকম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যেকোনো সময় তাদের মৃত্যু হতে পারে। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার চিঠি লিখেও তেমন কোনো সুরাহা পাচ্ছে না শরীয়তপুর জেলা কারা কর্তৃপক্ষ।
শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল কবীর বলেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। যাতে এসব বন্দিরা তাদের স্বজন ও নিজ দেশে ফেরত যেতে পারে।
চিকন্দী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও চিকন্দী বারের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান তালকদার বলেন, একজন বিদেশি বন্দি জেলখানায় মারা গেলে তার লাশ হিমাগারে রক্ষণাবেক্ষণ ও নানা রকম আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ সৎকার করতে হয়। তাতে সরকারের লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। তাই জরুরিভিত্তিতে তাদের নিজ দেশে পাঠানো উচিত।
শরীয়তপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. বজলুর রশিদ বলেন, গত ২০২২-২৩ সাল থেকে ২০ জন বিদেশি নাগরিক বন্দি ছিল। তাদের মধ্যে ৩ জন মারা যান। তাদের আমরা দীর্ঘদিন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রেখে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের লাশ সৎকার করি। এতে আমাদের ২৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এখন যারা আমাদের এখানে বন্দি আছে তারা ঠিকমতো খাবার খাচ্ছে না, কাপড় পরিধান করছে না। এ নিয়ে আমরা ওপরে লেখালেখি করছি। নির্দেশ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কারাগারে ভারতীয় বন্দি আছেন। কেন আছেন তা ফাইল দেখে বলতে হবে।