(প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ)
গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ ইং DWCCI/দিনাজ/ ২০২৬-৩১ দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি, বরাবর পাঠানো অভিযোগ সুত্র জানা যায়।
দিনাজপুর মহিলা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি সাফা গ্রেফতার শিরোনামে আপনার অধীনস্থ সাংবাদিক মোঃ নুর ইসলাম গত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি স্থানীয়/অনলাইন গণমাধ্যমে দিনাজপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (DWCCI)-এর নাম ব্যবহার করে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে।
উক্ত সংবাদে প্রকাশিত তথ্যসমূহ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ কার্যসূচি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তা বাস্তবতার সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
দিনাজপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (DWCCI) দীর্ঘদিন ধরে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কাজ করে আসছে। আমাদের সকল কার্যক্রম যথাযথ নিয়মনীতি ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে।
সম্প্রতি দিনাজপুর উইমেন্স চেম্বার অফ কমার্স ইন্ডাস্ট্রিস এর তত্ত্বাবধানে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় উত্তরবঙ্গের ২৫ টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩০ টি ব্যচের এন্টারপ্রাইজ বেজড প্রশিক্ষণ প্রদানের অনুমতি প্রদান করা হয়। মূলত, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলা ও মর্যাদাসম্পন্ন কর্মজীবনে প্রবেশে সহায়তা বলাই এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য।
প্রশিক্ষণটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো প্রকল্পের শর্ত মোতাবেক প্রশিক্ষণ শেষে যারা কম্পিটেন্ট হবেন তারাই প্রশিক্ষণ ও যাতায়াত ভাতা প্রাপ্ত হবেন। উক্ত ভাতা মোট তিন ধাপে পরিশোধিত হয়। প্রথমত, প্রকল্প দপ্তর সরাসরি প্রশিক্ষণার্থী ও প্রশিক্ষকদের ব্যাংক একাউন্টে তাদের প্রাপ্য ভাতা পাঠিয়ে দেয়। দ্বিতীয়তঃ প্রশিক্ষণ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ এসটিপিকে একইভাবে প্রাপ্য অর্থও প্রকল্প দপ্তর থেকে সরাসরি তাদের একাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তৃতীয়তঃ অপর অংশ ইন্ডাস্ট্রি পার্টনারকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তত্ত্বাবধানে জন্য প্রদান করা হয় যার পরিমাণ ব্যচ পতি ভ্যাট ও ট্যাক্স সহ সর্বোচ্চ ৬০০০ টাকা।
একটি ব্যাচের নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রশিক্ষণার্থী কম্পিটেন্ট হলে প্রকল্প দপ্তর থেকে ৮০% অর্থ উপরে বর্ণিত পদ্ধতিতে ছাড় করা হয়। অপর ২০% অর্থ প্রশিক্ষণ শেষ হবার তিন মাস পরে উক্ত প্রশিক্ষনার্থীদের কর্মসংস্থানের তথ্য পাবার পর একই হারে ও পদ্ধতিতে ছাড় করা হয়।
দিনাজপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ উত্তরবঙ্গের নারীদের প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে উক্ত কার্যক্রমে যুক্ত হয়। এই কার্যক্রম থেকে অর্থ আত্মসাৎ এর যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কারণ এখন পর্যন্ত উক্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাবদ বর্ণিত শর্তাদি ও পুরোপুরি পালিত না হাওয়ায় প্রকল্প দপ্তর থেকে আমরা কোন অর্থ পায় নাই। প্রকল্পের শর্ত মোতাবেক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেই কেবল আমরা টাকা পাবো যা থেকে আমরা এখনো কিছুটা দূরে রয়েছি।
আশা করছি আমরা শীঘ্রই প্রশিক্ষণ বাবদ অর্থ প্রাপ্তির যোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হবো এবং তখন বিধি মোতাবেক প্রশিক্ষণার্থীর টাকা সরাসরি প্রশিক্ষণার্থীর কাছে প্রশিক্ষকের টাকা প্রশিক্ষকের কাছে এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের টাকা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান কাছে আসেট প্রকল্প হতে ব্যাংকের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে। ইন্ডাস্ট্রি পার্টনার হিসেবে দিনাজপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের তখন তার প্রাপ্য অর্থ পাবে। কোনো প্রকার অর্থ হাতে পাওয়ার পূর্বেই অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ আসলে অন্য অর্থ ও উদ্দেশ্য বহন করে। অভিযোগকারীরা শুধু আমাকেই হেয় করতে চায় না, তারা আসলে নারীর অগ্রযাত্রাকেও বাধাগ্রস্ত করতে চায়। কিন্তু অন্যায় ভাবে আধা দিলেই সবকিছু যায় না,
সভ্যতার অগ্রগতিই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আশা করি না জেনে বা না বুঝে যারা অর্থ আত্মসাতের উক্ত মিথ্যা গল্প সংবাদপত্র, অনলাইন মিডিয়া ও ফেইসবুক ইউটিউবে প্রকাশ ও প্রচার করেছেন, তারা দ্রুত তা প্রত্যাহার করবেন এবং এই প্রতিবাদটি প্রকাশ ও প্রচার করে দেশবাসীকে সঠিক তথ্য পেতে সাহায্য করবেন। এবং সাংবাদিক মো: নুর ইসলাম এর দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিক সদস্য পদ বাতিল করতঃ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে অনুরোধ করছি।
এছাড়াও, মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার আমরা সংরক্ষণ করছি।
ধন্যবাদান্তে,
মোছা. জান্নাতুস সাফা শাহীনুর
সভাপতি
দিনাজপুর উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (DWCCI)
Leave a Reply