(আজকের দিনকাল):ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও নৈতিক জীবনকে সুশৃঙ্খল করার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনাগুলোর মধ্যে ‘অঙ্গীকার রক্ষা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক গুণ। কোরআন ও হাদিসে অঙ্গীকার পূরণের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কারণ এটি ইমান, সততা ও উত্তম চরিত্রের বাস্তব প্রতিফলন।
কোরআনে অঙ্গীকার রক্ষার গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা অঙ্গীকার পূরণ করো, নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে (তোমাদের) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ৩৪)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, অঙ্গীকার পালন আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি বাধ্যবাধকতা। পরকালে ফরজ, ওয়াজিবসহ অন্য বিধানাবলি পালন করা না-করা সম্পর্কে যেমন প্রশ্ন করা হবে, তেমনি মানুষের ওয়াদা-অঙ্গীকার সম্পর্কেও হিসাব নেওয়া হবে।
হাদিসে অঙ্গীকার রক্ষার গুরুত্ব
অঙ্গীকার রক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি কখনো নিজের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেননি। এমনকি শত্রুদের সঙ্গেও তা রক্ষা করেছেন। অঙ্গীকার রক্ষা করা মুমিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য গুণ। হাদিসে অঙ্গীকার ভঙ্গ করাকে মুনাফিকের লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, ‘মুনাফিকের তিনটি লক্ষণ—যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন প্রতিশ্রুতি দেয় তা ভঙ্গ করে এবং যখন আমানত রাখা হয়, তার খিয়ানত করে।’ (সহিহ বুখারি: ৩৩)
অঙ্গীকার ভঙ্গের পরিণতি
যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কৃত অঙ্গীকার রক্ষা করবে না, কিয়ামতের দিন তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা হবে এবং তার খিয়ানতের পরিচয় সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর জন্য কিয়ামতের দিন একটি পতাকা (চিহ্ন) স্থাপন করা হবে। আর বলা হবে, এটি অমুক ব্যক্তির বিশ্বাসঘাতকতার চিহ্ন।’ (সহিহ মুসলিম: ১৭৩৫)
ইনশা আল্লাহ কী, এর সঠিক ব্যবহার কীভাবে করতে হয়ইনশা আল্লাহ কী, এর সঠিক ব্যবহার কীভাবে করতে হয়
ব্যক্তিগত জীবনে অঙ্গীকার রক্ষা আত্মশুদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সামাজিক জীবনেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই আমাদের উচিত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি পালনে সচেষ্ট থাকা এবং এই মহান গুণটি নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা। -ডেস্ক