(আজকের দিনকাল):জনগণের কাছে সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে দুর্নীতির সঙ্গে সরকার আপস করতে চায় না বলে জানান তিনি। রোববার চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। সম্মেলন চলাকালে কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকরা প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র নিরঙ্কুশ বিজয়ে সরকার গঠনের পর এটি প্রথম ডিসি সম্মেলন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত যে জুলাই সনদ অর্থাৎ আমাদের ম্যানিফেস্টো এবং জুলাই সনদ এটার প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা এ ব্যাপারে বদ্ধপরিকর। আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে ইনশাআল্লাহ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। মাঠ প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অবস্থান করছেন।
একটি শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক আইনসম্মত এবং জনবান্ধব রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই হচ্ছেন কিন্তু সরকারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি বলেন, সুশাসন বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং অবশ্যই জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। সেটি হচ্ছে আমরা কম্প্রোমাইজ করতে চাই না দুর্নীতির সঙ্গে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনের নিয়োগ বদলি কিংবা প্রমোশনের মূলনীতি। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সঙ্গে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়ন সহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে। এ ব্যাপারে আমরা সবাই ওয়াকিবহাল। সুতরাং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যদি টিকে থাকতে হয় তাহলে অবশ্যই জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকেও সময়ের সঙ্গে মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত রাখতে হবে। আমি শিউর আপনারা এ ব্যাপারে সচেতন আছেন এবং সে ব্যাপারে নিজেদেরকে প্রস্তুত করে তুলছেন।
তিনি বলেন, চতুর্থ বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে জনপ্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও কীভাবে সময়োপযোগী, দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহি করা যায় এটি বোধহয় আমাদের এখন চিন্তা করা উচিত হবে। আমি মনে করি যেহেতু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বলেন এইগুলো এগিয়ে যাচ্ছে; আমার মনে হয় আমাদের এই বিষয়ে ডেভেলপ করা ছাড়া বিকল্প কোনো কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সম্মেলনকে কেবল আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের জায়গা হওয়া উচিত নয়। বরং এটি এমন একটি পরিসর যেখানে মাঠ প্রশাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সীমাবদ্ধতা প্রয়োজন এবং উদ্ভাবনী চিন্তা সরাসরি জাতীয় পর্যায় সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হতে পারে বা হওয়া উচিত। আপনারা মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ইচ্ছামতো যাতে কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়াতে না পারে কিংবা যে টেন্ডেন্সিটি আমরা দেখি বিভিন্ন সময় মজুতদারি বা কারসাজির মাধ্যমে বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা কেউ করতে না পারে সেজন্য নিয়মিত বাজার তদারক জোরদার করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি, বাল্যবিবাহ, নারী এবং শিশু নির্যাতন দয়া করে এই ক’টি বিষয়ে আপনারা আপনাদের ব্যক্তি অবস্থান থেকে দয়া করে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয়। এই খাবারটি আপনি খাচ্ছেন, আমি খাচ্ছি, আপনার পরিবারের সদস্য আপনার সঙ্গে থাকছে তারাও খাচ্ছে। কাজেই এটির প্রতি আমাদের নজর রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রোঅ্যাক্টিভ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমি মনে করি জনপ্রশাসনকে গণমুখী করা গেলে জনগণ সরকারের কার্যক্রমের সুফল থেকে নিশ্চয়ই বঞ্চিত হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, জাতীয় ঐক্যই হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে, মতভেদ থাকাটাই আমাদের মধ্যে স্বাভাবিক। কিন্তু দেশের স্বার্থে আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দেশের স্বার্থে আমি বিশ্বাস করি সবার আগেই বাংলাদেশ।
মন্ত্রিপরিষদের সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী এবং নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বক্তব্য রাখেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়পর্বে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা।-ডেস্ক