নুর আলম সিদ্দিক অস্ট্রেলিয়া থেকে (আজকের দিনকাল):অস্ট্রেলিয়া—নামটা শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে বিস্তীর্ণ মরুভূমি, সমুদ্রতট আর আধুনিক শহরের ছবি। কিন্তু এই দেশের বুকেই লুকিয়ে আছে এক শান্ত, গম্ভীর পর্বত—মাউন্ট কোশিউস্কো। সেটিই আমার ভ্রমণের গন্তব্য ছিল।
আমি যাত্রা শুরু করি Kosciuszko National Park এর দিকে। শহরের কোলাহল পেছনে ফেলে যখন পাহাড়ি পথে উঠতে শুরু করলাম, তখনই প্রকৃতির এক অন্য রূপ চোখে পড়তে লাগল। চারপাশে সবুজ ঘাস, দূরে বরফে ঢাকা চূড়া, আর ঠান্ডা হাওয়ার ছোঁয়া—সব মিলিয়ে যেন এক স্বপ্নের রাজ্য।
পথটা খুব কঠিন ছিল না, কিন্তু সহজও নয়। কখনো সরু পথ, কখনো পাথুরে ঢাল—ধীরে ধীরে এগোতে হচ্ছিল। মাঝে মাঝে থেমে নিঃশ্বাস নিতাম, আর তাকিয়ে থাকতাম আকাশের দিকে। নীল আকাশের নিচে সাদা মেঘগুলো যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়।
এক সময় আমি পৌঁছে যাই শিখরের কাছাকাছি। সেখানে দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকিয়ে মনে হলো—আমি যেন পৃথিবীর ওপর দাঁড়িয়ে আছি। নিচে সবকিছু ছোট হয়ে গেছে, আর উপরে শুধু আকাশ। সেই মুহূর্তে এক অদ্ভুত শান্তি অনুভব করলাম—যেন সব দুঃখ, ক্লান্তি, চিন্তা এই পাহাড়ের বাতাসে মিলিয়ে গেছে।
সূর্য তখন ধীরে ধীরে পশ্চিমে ঢলে পড়ছে। আকাশে লাল আর কমলা রঙের মিশেল তৈরি হয়েছে। আমি নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য উপভোগ করছিলাম। মনে হচ্ছিল—এই মুহূর্তটাই হয়তো জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে থাকবে।
ফিরে আসার সময় মনে হচ্ছিল—আমি শুধু একটি পাহাড় ঘুরে আসিনি, বরং নিজেকেও নতুন করে খুঁজে পেয়েছি।
অস্ট্রেলিয়ার এই পর্বত আমাকে শিখিয়েছে—
জীবনের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে নীরবতায়,
আর সেই নীরবতাকে খুঁজে পেতে হলে
কখনো কখনো নিজেকেই অনেক দূরে নিয়ে যেতে হয়।