• শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
Headline
“ক্যামেরা নেই, তাই সাংবাদিক নন?” — বগুড়ায় কনস্টেবল মানিকের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ গণমাধ্যমকর্মীরা সিলেটে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে র‍্যাব কনস্টেবল নিহত ‘চিৎকার না করলে সব লুটপাট করে আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করত’ বাংলাদেশের নতুন কোচ টমাস ডুলি বিপিসির প্রধান কার্যালয়: ৫০ কোটিতে ভবন তৈরির পর কার্যালয় যাচ্ছে ঢাকায় ঈদুল আজহায় বায়তুল মোকাররমে ৫টি জামাত, প্রথমটা কয়টায় নিরাপদ ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের সুপারিশ ২৩ দিন পর খোঁজ মিলল কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুলের খুলনা জেনারেল হাসপাতালের তরকারি মুখে নিয়েই ফেলে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনিয়ম দেখে ক্ষুব্ধ টেস্ট ইতিহাসের সেরা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ, বেকায়দায় পাকিস্তান

বিপিসির প্রধান কার্যালয়: ৫০ কোটিতে ভবন তৈরির পর কার্যালয় যাচ্ছে ঢাকায়

Reporter Name / ০ Time View
Update : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

(আজকের দিনকাল) : বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নিজস্ব কার্যালয়ের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। ঈদুল আজহার পর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি যখন চলছে, তখন এই কার্যালয় ঢাকায় সরিয়ে নেওয়ার তৎপরতা শুরু হয়েছে। চলছে চিঠি চালাচালির কাজ। জানা গেছে, চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চেষ্টায় এ তৎপরতা শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরের সার্সন রোডসংলগ্ন জয়পাহাড়ের কোলে বিপিসির জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ৫ তলা এই ভবন। এই বিষয়ে বিপিসি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক বিপিসির উপমহাব্যবস্থাপক মো. আপেল মামুন বলেন, চট্টগ্রামে বিপিসির নিজস্ব ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি কোরবানির ঈদের কয়েক দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

তবে এরই মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশনে কার্যপ্রণালির ৭১ বিধি অনুসারে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জরুরি-জনগুরুত্বসম্পন্ন একটি নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে জনস্বার্থে বিপিসির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুষ্ঠুভাবে কার্যসম্পাদনের লক্ষ্যে প্রধান কার্যালয় রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরের আবেদন জানান। একই সঙ্গে ঢাকায় বিপিসির স্বতন্ত্র ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করার কথাও বলেন তিনি। বিষয়টি আমলে নিয়ে ১২ মে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান চিঠি দেন বিপিসির চেয়ারম্যানকে। জরুরি ভিত্তিতে এই বিষয়ে মতামত দেওয়ার কথা বলা হয় সেই চিঠিতে।

মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়ে বিপিসি সচিব শাহিনা সুলতানা আরেকটি চিঠি ইস্যু করেন বিপিসির ছয় বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। এসব কর্মকর্তার মধ্যে একজন ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক এবং পাঁচজন মহাব্যবস্থাপক রয়েছেন। শাহিনা সুলতানা বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিপিসির পক্ষে সংশ্লিষ্টদের চিঠি ইস্যু করে উল্লিখিত বিষয়ে জরুরিভিত্তিতে মতামত জানতে চেয়েছি।’

কার্যালয়ে চেয়ারম্যান আসেন ভ্রমণে: বিপিসির তথ্যমতে, জ্বালানি তেল কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ ৮টি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এবং দেশের জ্বালানি তেল মজুত ও বিতরণের প্রধান স্থাপনাগুলো চট্টগ্রামেই। এ ছাড়া দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিকেন্দ্রিক ‘ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ শীর্ষক ৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা এবং বিপিসির ৩ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকার চট্টগ্রাম-ঢাকা তেল পাইপলাইন প্রকল্পের গোড়াও চট্টগ্রাম। আমদানি করা জ্বালানি তেল খালাসের পয়েন্ট চট্টগ্রাম বন্দর।

বিপিসির নথি বলছে, প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামের হলেও বিপিসির চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনেকে চট্টগ্রামে থাকেন না। কর্মকর্তারা বলছেন, চেয়ারম্যানসহ এই কর্মকর্তারা চট্টগ্রামে প্রধান কার্যালয়ে আসেন ভ্রমণ করতে। গত ২ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার মো. রেজানুর রহমান বিপিসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর দেশে তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যেও চেয়ারম্যান ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসেননি। সর্বশেষ তিনি ৬ ও ৭ মে চট্টগ্রামে আসেন। তাঁর সফরসূচিতে চট্টগ্রামে ভ্রমণের কথা লেখা ছিল। ঠিক একইভাবে বিপিসির সাত পরিচালকের অধিকাংশই ঢাকায় অবস্থান করেন।

বিপিসির মূল কার্যালয় চট্টগ্রাম নগরীর সল্টগোলা রোডের বিএসসি ভবনে অবস্থিত হলেও শীর্ষ কর্মকর্তারা বছরের পর বছর ঢাকার কারওয়ান বাজারের লিয়াজোঁ অফিস থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এসব কর্মকর্তা বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সরিয়ে নিতে তৎপর বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে কথা বলতে বিপিসির চেয়ারম্যানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এই বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, ‘ভোটের সময় এখানকার মানুষকে খুশি করার জন্য চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেন নেতারা। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে আমরা তার ছিটেফোঁটাও দেখতে পাই না। জ্বালানি সেক্টরকেন্দ্রিক দুর্নীতি অনিয়মের একটি বড় অভিযোগ সব সময় রয়েছে। বিপিসির প্রধান কার্যালয়কে ঢাকায় স্থানান্তরের ক্ষেত্রে হয়তো আর্থিক লেনদেনের বিষয়ও থাকতে পারে।’ তিনি বলেন, প্রতিবছর দেশে ৬০-৭০ লাখ টন জ্বালানি আমদানির পুরোটাই চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। এককথায় চট্টগ্রাম জ্বালানির রাজধানী। বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকা নেওয়া মানে চট্টগ্রামের সঙ্গে সৎমায়ের মতো আচরণ করা। এই বিষয়টি বোঝার সক্ষমতা নিশ্চয় বর্তমান সরকারের রয়েছে।-ডেস্ক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা