• শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন
Headline
কুষ্টিয়ার ​মিরপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান: দলীয় নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ফখরুলের বিপুল নেতাকর্মী নিয়ে শহীদ জিয়ার মাজারে সাইফুল আলম নীরবের শ্রদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: স্মরণে শ্রদ্ধায় ও ইতিহাসে অসময়ে জিয়াউর রহমানকে হত্যা না করলে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হতো-স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ইরান যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে হরমুজ প্রণালী, মাইন আতংকে যুক্তরাষ্ট্র! বাবার জানাজায় অংশ নিতে ৭ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেলেন সাবেক এমপি সুজন জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বঞ্চিত ও অভাবগ্রস্তদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: স্মরণে শ্রদ্ধায় ও ইতিহাসে

Reporter Name / ০ Time View
Update : শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬

ড. মোঃ রুহুল আমিন সরকার (আজকের দিনকাল) :জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের আলোচিত ব্যক্তিত্বদের একজন। তার জীবন ছিল ঘটনাবহুল, কর্মমুখর এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তার নেতৃত্ব, কর্মধারা এবং রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ভিন্নমত ও আলোচনা থাকলেও দেশের ইতিহাসে তার উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার অংশ হয়ে রয়েছে। সেই কারণেই তার মৃত্যুবার্ষিকী অনেকের কাছে শুধুমাত্র শোকের দিন নয়, স্মরণ, মূল্যায়ন এবং ইতিহাসের দিকে ফিরে দেখার একটি দিন।

৩০ মে এলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বেদনাবিধুর অধ্যায় নতুন করে স্মৃতির দরজায় কড়া নাড়ে। এ দিনটি শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কের মৃত্যুবার্ষিকী নয়, বরং একটি সময়, একটি অধ্যায় এবং বহু মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মরণময় দিন। সময়ের ব্যবধানে বছর পেরিয়ে যায়, কিন্তু কিছু ঘটনা মানুষের স্মৃতিতে স্থায়ী হয়ে থাকে। এ দিনটি তেমনই এক উপলক্ষ, যখন অনেক মানুষ অতীতের দিকে ফিরে তাকায় এবং ইতিহাসের নানা অধ্যায়কে নতুন করে স্মরণ করে। এ দিনে স্মৃতির ভেতর ভেসে ওঠে একটি অস্থির সময়ের চিত্র, উঠে আসে রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষের নানা অভিজ্ঞতার কথা। ইতিহাসের মানুষদের মূল্যায়ন সময়ের সঙ্গে নতুন মাত্রা পায়, কিন্তু তাদের অবদান, সিদ্ধান্ত এবং প্রভাব ইতিহাসের আলোচনায় থেকে যায়। মৃত্যু মানুষকে দূরে নিয়ে যায়, কিন্তু স্মৃতি এবং ইতিহাস তাকে বহু সময় জীবন্ত করে রাখে।

আজকের এই স্মরণঘন দিনে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনেকেই অতীতকে স্মরণ করেন, ইতিহাসকে নতুনভাবে পড়ার চেষ্টা করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেই সময়ের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাকে ধারণ করার কথা ভাবেন। শ্রদ্ধা, স্মরণ এবং ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়েই এ মৃত্যুবার্ষিকীর তাৎপর্য নতুন করে অনুভূত হয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রজীবনে গভীর আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।

তিনি ছিলেন সৈনিক, রাষ্ট্রনায়ক ও রাজনৈতিক নেতা। তার সমর্থকদের কাছে তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন ঘোষক, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা এবং বহুদলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রবর্তক হিসেবে পরিচিত। জিয়াউর রহমানের জীবন ছিল ঘটনাবহুল। তিনি সামরিক জীবন থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায় আসেন। তার সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন, অর্থনৈতিক উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে নানা পরিবর্তন আসে। অনেকের কাছে তিনি পরিবর্তনের প্রতীক। আবার তার কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। তবু বাংলাদেশের ইতিহাসে তার অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।

জিয়াউর রহমান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি। শৈশব থেকেই তিনি শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। শিক্ষা ও আত্মগঠনের প্রতি তার আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ধীরে ধীরে সামরিক পেশার প্রতি আকৃষ্ট হন। পরে সেই পথই তার জীবনের প্রধান পরিচয় হয়ে ওঠে। তার জীবনের প্রথম পর্যায় তাকে দৃঢ় মানসিকতা দেয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। নেতৃত্বের গুণ বিকাশে সহায়তা করে। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় এই অভিজ্ঞতার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। জিয়াউর রহমান তরুণ বয়সে সামরিক পেশায় যোগ দেন। তিনি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং ধাপে ধাপে দায়িত্ব পালন করেন। তার কর্মজীবনে শৃঙ্খলা, কর্তব্যবোধ এবং সাংগঠনিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেন। অধীনস্থ সদস্যদের পরিচালনা এবং দায়িত্ব পালনে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতা তাকে প্রশাসনিক বাস্তবতা বোঝার সুযোগ দেয়।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের কেন্দ্রীয় অধ্যায়। এ সময় জিয়াউর রহমানের নাম জনপরিসরে পরিচিত হয়ে ওঠে। যুদ্ধের সময় তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নেন। তার ভূমিকা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে নানা আলোচনা থাকলেও তিনি মুক্তিযুদ্ধের একটি পরিচিত সামরিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। মুক্তিযুদ্ধ মানুষের আত্মপরিচয় বদলে দেয়। সেই সময়কার রাজনৈতিক ও সামরিক ঘটনাবলি পরবর্তী বাংলাদেশের পথ নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। জিয়াউর রহমানও সেই পরিবর্তনের অংশ হয়ে ওঠেন।

সামরিক পটভূমি থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বহু সংকটের মুখোমুখি হয়। অর্থনৈতিক সমস্যা ছিল প্রবল। প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল ছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল দৃশ্যমান। এ সময় দেশের মানুষ স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করছিল। জনগণ চেয়েছিল উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও নতুন সম্ভাবনা। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের উত্থান ঘটে। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশ্নে নতুন কিছু ধারণা সামনে আনেন। রাজনৈতিক দল গঠন ও প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেন। তার সমর্থকদের মতে, তিনি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্র প্রসারিত করতে চেয়েছিলেন। ভিন্নমতের মানুষের জন্য রাজনৈতিক পরিসর তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। সমালোচকেরা আবার এ বিষয় নিয়ে ভিন্ন মূল্যায়ন করেছেন। তবে তার সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তন বাংলাদেশের ইতিহাসে আলোচিত একটি অধ্যায়।

জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সমর্থকদের আলোচনায় একটি বিষয় প্রায়ই উঠে আসে। তা হলো সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার প্রচেষ্টা। বিভিন্ন অঞ্চল সফর, মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি এবং মানুষের বক্তব্য শোনার বিষয়টি তার রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়। অনেক মানুষের স্মৃতিতে তিনি এমন একজন নেতা, যিনি প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে জনগণের কথা শুনতেন। গ্রাম, কৃষি ও স্থানীয় উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তার সমর্থকরা উল্লেখ করেন। তার রাজনৈতিক দর্শনের আলোচনায় স্বনির্ভরতা, উৎপাদন এবং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের বিষয় উঠে আসে। এসব ধারণা পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনাতেও প্রভাব ফেলেছে।

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক চরিত্র। তার অবদান, নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা আজও চলমান। কেউ তাকে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখেন। কেউ তার সময়ের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করেন। কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাস আলোচনা করা কঠিন। বহুদলীয় গণতন্ত্র, রাষ্ট্র পরিচালনা, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও উত্তরাধিকার তথা রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসে কিছু সময় আসে, যখন পুরোনো কাঠামো পরিবর্তনের দাবি ওঠে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় ছিল তেমন একটি পর্যায়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক সংকট এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে নতুন পথ অনুসন্ধানের আলোচনা সামনে আসে।

এ বাস্তবতায় জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেন। তার সমর্থকদের মতে, তিনি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেন। বিরোধীদের মতে, সেই সময়ের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কও ছিল। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার সময়কে একটি পরিবর্তনপর্ব হিসেবে আলোচনা করা হয়। জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে বহুদলীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ প্রায়ই যুক্ত করা হয়। তার সমর্থকদের মতে, তিনি ভিন্নমতের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। রাজনৈতিক দল গঠন ও নির্বাচনি কাঠামো সক্রিয় করার উদ্যোগ তার সময়ে গুরুত্ব পায়। সমর্থকদের দৃষ্টিতে এ পদক্ষেপ রাজনৈতিক আলোচনার পরিসর বিস্তৃত করে। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা রাষ্ট্রকে অধিক অংশগ্রহণমূলক করে। তবে ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে এ বিষয়ের মূল্যায়ন ভিন্ন হতে পারে।

জিয়াউর রহমানের সমর্থকদের ভাষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করার প্রচেষ্টা। নির্বাচনি কার্যক্রম, রাজনৈতিক সংগঠন এবং প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নিয়ে তার উদ্যোগ উল্লেখ করা হয়। তাদের মতে, তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা বলতেন। স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ধারণাও আলোচনায় আসে। অন্যদিকে সমালোচকেরা এ সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ফলে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার মূল্যায়নে বিভিন্ন মত বিদ্যমান রয়েছে। জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার আলোচনায় প্রায়ই উন্নয়ন, উৎপাদন এবং স্বনির্ভরতার বিষয় উঠে আসে। কৃষি, অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়ার কথা তার সমর্থকেরা উল্লেখ করেন। তার সময়ে উন্নয়ন ভাবনায় স্থানীয় উদ্যোগের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ঐতিহাসিক আলোচনায় উঠে আসে। তিনি উন্নয়নকে কেবল অর্থনৈতিক বিষয় হিসেবে নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতার অংশ হিসেবেও দেখতেন।

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক পরিচয়ের আলোচনায় ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ একটি বহুল আলোচিত বিষয়। তার সমর্থকদের মতে, এ ধারণার মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয়কে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রের স্বাধীন পরিচয়, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছিল। তাদের মতে, ভৌগোলিক বাস্তবতা ও রাষ্ট্রিক পরিচয়কে রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা ছিল এর অংশ। অন্যদিকে গবেষক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে এ ধারণার ব্যাখ্যা ও মূল্যায়ন নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। ফলে এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক চিন্তার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে আছে।

জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সমর্থকদের একটি বড় বক্তব্য হলো তিনি মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। বিভিন্ন অঞ্চলে সফর এবং মানুষের কথা শোনার প্রচেষ্টা তার রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়। অনেক সমর্থক তাকে এমন একজন নেতা হিসেবে স্মরণ করেন, যিনি উন্নয়নের আলো গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছানোর কথা বলতেন। কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ নাগরিকের সম্ভাবনা নিয়ে তার বক্তব্য প্রায়ই আলোচিত হয়। এ কারণেই তার সমর্থকদের একটি অংশ তাকে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে মূল্যায়ন করে থাকে।

৩০ মে তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর আলোচনার বিষয় হয়ে আছে। তার মৃত্যু রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সমর্থকদের কাছে এটি ছিল একটি বেদনাময় মুহূর্ত। প্রতি বছর এ দিনে তাকে স্মরণ করা হয়। বিভিন্ন আলোচনা, দোয়া ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হয়। তার রাজনৈতিক দর্শন ও অবদান নিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ইতিহাসে নেতাদের মূল্যায়ন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। জিয়াউর রহমানও সেই আলোচনার বাইরে নন। তার ভূমিকা, সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে বিভিন্ন মত বিদ্যমান থাকবে। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে আলোচিত থাকবেন।

ড. মো. রুহুল আমিন সরকার, অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা