আজ ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ওরা জানে না মে দিবস কী

(আজকের দিনকাল): দেশের অষ্টম ব্যবসা বাণিজ্যের শহর হিসাবে পরিচিত নীলফামারীর সৈয়দপুর। এখানে ঘরে ঘরে মিনি-কারখানা। সেসব কারখানার ঠকঠক, টুং টাং শব্দ কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই শব্দ। ট্রাঙ্ক, বালতি, মোমবাতি, আগরবাতি, শোকেস, ফাইল কেবিনেট, সাবান, গুল, জর্দা, প্লাস্টিকের কৌটা, বাইসাইকেল, রিকশা, ভটভটি তৈরি করছে তারা।

খাদ্যতালিকায় বিস্কুট, চানাচুর, চকলেট, চিপস, পাঁপর তৈরি হচ্ছে। রেডিমেড ফার্নিচার, ফাউন্ড্রি কারখানাও রয়েছে। বেনারসি শাড়ি তৈরি, পোশাকে কারচুপি, চুমকি ও পাথর বসানোর কাজ চলে। আছে তৈরি পোশাকের ছোট ছোট কারখানাও। লেদ মেশিনে এমন সব ডাইস তৈরি হচ্ছে যা দেশের অন্য স্থানে করা সম্ভব নয়। তবে এসব শ্রমিকরা জানে না মে দিবস কী। কারণ একটাই কাজ না করলে মজুরি মেলে না। শ্রমিকরা জানায়, মে দিবসের মিছিল, রঙ খেলা, আলোচনা অনুষ্ঠান বা গানের অনুষ্ঠানের চেয়ে কাজ করে মজুরি বুঝে নেয়া ঢের ভালো। বালতি ফ্যাক্টরিতে কাজ করে আসিফ। তার বাড়ি উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে। পিতা ইটের ভাটাতে কাজ করেন। আসিফকে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। বিনিময়ে তাকে প্রতিদিন তিনবেলা খাবার এবং সপ্তাহে মজুরি দেয়া হয় ১ হাজার টাকা। এই বালতি ফ্যাক্টরির পাশের একটি বাক্স তৈরি কারখানায় কাজ করে গুড্ডু।

সারাদিন কাজ করে তিনবেলা খাওয়ার পর তাকে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি দেয়া হয়। সৈয়দপুর শহরের রেলওয়ে বাজারের বিভিন্ন হোটেলে কাজ করে মজিদ, হাবিব, জয়নাল, কাশেম ও মিঠু। এদের গড় বয়স ১৫ থেকে ১৮ বছর। এরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে মজুরি পায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এদের মধ্যে কারও বাবা, আবার কারও মা নেই। ফলে বাঁচার অবলম্বন হিসেবে এই শিশুরাই হাল ধরেছে সংসারের। তামাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা জানে না তাদের ভবিষ্যৎ কী? প্রতিদিন যে তারা একটু একটু করে মৃত্যুর মুখে ধাবিত হচ্ছে তাদের ন্যূনতম ধারণা নেই। একই অবস্থা অন্য গুল ফ্যাক্টরিগুলোতেও। সৈয়দপুর শহরে ছোট-বড় মিলে ৫০টির বেশি গুল ফ্যাক্টরি রয়েছে। তবে বড় গুল ফ্যাক্টরি রয়েছে ৫টি।

এগুলো হলো- তারেক, খালেদ, শাকিব, ওয়ান স্টার ও নিউ স্টার গুল ফ্যাক্টরি। কিন্তু শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নে মালিকদের নেই কোনো পরিকল্পনা। অল্প আয়ের মানুষ বসবাস করে এমন আবাসিক এলাকায় গুল ফ্যাক্টরিগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। বেসরকারি জরিপে জানা যায়, সৈয়দপুরে বিভিন্ন মিল, শিল্প, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানে জড়িত শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১০ হাজার। তবে অভাব-অনটনে এর সংখ্যা প্রতি বছর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, বহু নারী-পুরুষ ও শিশু শ্রমিক চুক্তিভিত্তিতে বা দৈনিক হাজিরায় কাজ করছে।-ডেস্ক

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ