• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
Headline
নাটোরে ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা, স্ত্রী-ছেলে আটক নারী এমপিরা সংসদকে প্রাণবন্ত করবেন: মির্জা ফখরুল মানানসই হয়নি পুলিশের নতুন পোশাক, শার্ট থাকবে আগের মতো প্যান্ট হবে খাকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৮ প্রবাসী জুলাইযোদ্ধাকে ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রুল ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে যে ৫ খাবার এড়িয়ে চলবেন বিসিবি ৬৫০ দিলেও কর্মীরা পান ৩০০ টাকা, দুর্নীতি দেখে ক্ষুব্ধ তামিম সাত দিনের প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন ১০০ শিক্ষক, তালিকা প্রকাশ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিএনপির সংরক্ষিত নারী এমপিদের শ্রদ্ধা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে প্রকল্প অনুমোদন সহজের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা প্রতি মাসে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে পাবেন: কৃষিমন্ত্রী

ভিডিও কলে কাটা হলো আঙুল, এবার কবজি কাটার হুমকি,২৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে আরও ২৫ দাবি

Reporter Name / ০ Time View
Update : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

(আজকের দিনকাল): নবীগঞ্জের এক তরুণকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় আটকে রেখে মুক্তিপণ হিসাবে আদায় করা হয়েছে ২৭ লাখ টাকা। এরপরও ভুক্তভোগী রায়হান চৌধুরীর (৩০) মুক্তি মেলেনি। বরং আরও ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে মারধর করে ভিডিও কলে আঙুল কেটে নিয়ে কবজি কাটার হুমকি দিয়েছে দালাল চক্র। এ নির্যাতনের পর ৪২ দিন ধরে রায়হান নিখোঁজ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। এ অবস্থায় ওই দালাল চক্রের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা করে বিপাকে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ওই পরিবার। বৃহস্পতিবার মামলার প্রধান আসামি গোপনে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বেতাপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের চৌধুরী ১৫ ফেব্রুয়ারি নবীগঞ্জ থানায় মানব পাচার আইনে একটি মামলা করেন। এর এজাহারে বলা হয়, সহপাঠী হিসাবে পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে দালাল ও মানব পাচার চক্রের সদস্য শামীম ও তার সহযোগী রাগিব ইতালিতে ফ্রি ভিসায় নেওয়ার কথা বলে তার ছেলে রায়হান চৌধুরীকে প্রলুব্ধ করে। তাদের প্রলোভনে ইতালি যাওয়ার জন্য বাদী তাদের রায়হানের পাসপোর্ট প্রদান করে। এর কয়েকদিন পর শামীমের বাবা নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী হাসেনা বেগম, মেয়ে রিনু বেগম, শান্তা বেগম, রুবিনা বেগম বাড়িতে এসে বাদীকে জানায় রায়হানের ভিসা হয়েছে। তাদের কথামতো ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বাদী তাদের ১০ লাখ টাকা দেন। এর কিছুদিন পর রায়হানের পাসপোর্ট দেওয়ার সময় রাকিবের বাড়িতে গিয়ে আরও নগদ ২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। টাকা পাওয়ার পর তারা রায়হানকে প্রথমে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব ও পরে মিসর হয়ে লিবিয়া নিয়ে যায়। সেখানে শামীম ও রাকিব মিলে রায়হানকে ইতালি না পাঠিয়ে জিম্মি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। তারা রায়হানের মা, বাবাসহ আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে জানায় যে, বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাইলে বা ইতালি যেতে চাইলে দেশে থাকা তাদের সদস্য নজরুল ইসলামের কাছে আরও ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে। তারা রায়হানকে মারধর করে ভিডিও কলে দেখিয়ে একটি আঙুল কেটে নেয় এবং হুমকি দিয়ে বলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে কবজি কেটে দেবে। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে রায়হানের বাবা জমি ও স্বর্ণ বিক্রি করে ১৫ লাখ টাকা দেশে থাকা পাচারকারী চক্রের সদস্যদের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ও বিকাশের মাধ্যমে পাঠান। এভাবে ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওয়ার পরও তারা রায়হানকে দেশে বা ইতালি পাঠায়নি।

এরপর আবারও রায়হানকে মারধর করে ভিডিও করে দেখিয়ে আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করলে তার বাবা নিরুপায় হয়ে নবীগঞ্জ থানায় মানব পাচার আইনে মামলা করেন। মামলার পর থেকে তারা রায়হানের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না। দালাল চক্র তাকে কোথায় রেখেছে তার কোন হদিস পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে আবু তাহের চৌধুরী বলেন, আমি মামলা করে বিপাকে পড়েছি। এখন ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। সে কোথায় কিভাবে আছে আল্লাহ ভালো জানেন। আমার ছেলেকে মারধর করে ভিডিও কলে একটি আঙুল কেটে বলেছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে কবজি কেটে দেবে। এখন ৪২ দিন ধরে সে নিখোঁজ রয়েছে। আমাকে মামলা তোলার জন্য ও জেলে হাজতে থাকা প্রধান আসামি নজরুল ইসলামকে জামিনে নিয়ে আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।

নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, আমাদের কাছে থাকা মামলাটি কিছুদিন আগে অধিকতর তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সিআইডির কাছে প্রেরণ করেছি। এখন বিষয়টি সিআইডি তদন্ত করবে।-ডেস্ক


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা