• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে এনসিপি’র কনভেনশন,জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে

Reporter Name / ১ Time View
Update : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

(আজকের দিনকাল):জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে। সংস্কার নিয়ে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। নির্বাচনের আগে জনগণকে তারা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এখন তারা সেই জায়গা থেকে সরে এসেছে। জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন বলেন কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কথা একবারও বিএনপি বলেনি।

গতকাল দিনব্যাপী রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযোদ্ধা হলে ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি এই কনভেনশনের আয়োজন করেছে। চার পর্বের সেশনে বক্তব্য রাখেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

সমাপনী বক্তব্যে এনসিপি’র আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের ৫৪ বছর ধরে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান তার কবর রচনা করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে। বিএনপি বহুদলীয় গণতন্তের কথা বলে। কিন্তু নির্বাচনের পরে দেখলাম তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

তিনি বলেন, আমরা বলেছি, উচ্চকক্ষ লাগবে। কারণ বাংলাদেশে যেকোনো সরকার ক্ষমতায় এলে সংবিধান নিজের মতো সংশোধন করে নেয়। ফলে একটা ভারসাম্য দরকার। সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যেন একটি গণভোটের ব্যবস্থা থাকে। আমরা বলেছি, যেন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ না হয়, নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একক হাতে না থাকে। সর্বদলের সম্মতিতে গ্রহণযোগ্যভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেন প্রতিষ্ঠা হয়, বিচার বিভাগের পৃথকীকরকণ হয়। এগুলো দিয়েই যে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে, তা নয়। তবে আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই।

নাহিদ বলেন, আমরা সাংবিধানিক সংস্কারের কথা বলেছি। সংশোধনের মাধ্যমে এটা টেকসই হবে না। বিএনপি সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন করতে চাইলে সেটি টেকসই হবে না, যেকোনো সময় এটা বাতিল হতে পারে। আমি সংসদে বলেছি, জিয়াউর রহমান এই ঐতিহাসিক ভুল করেছিল। ফলে বাহাত্তরের সংবিধানের ধারাবাহিকতার নামে আওয়ামী লীগের আদর্শ এবং রাজনীতি ফিরিয়ে আনার দরজা খোলা রাখা হচ্ছে। রাজনৈতিকসংবাদ বুলেটিন

তিনি আরও বলেন, নোট অব ডিসেন্টে অনেক কথা এসেছে। এটি আপনারা যেকোনো সিদ্ধান্তে দেখতে পাবেন। সংসদে অনেক সিদ্ধান্তে আমাদের বিরোধিতা আছে। অনেকের ভিন্নমত আছে। তার এই ভিন্নমত লেখা হয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত কিন্তু পাশ হয়ে যায়। যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে। জুলাই সনদ যেদিন স্বাক্ষর হয়, সেদিন আলাদা করে নোট যোগ করা হয়েছে সবগুলোতে। যে দল ক্ষমতায় আসবে, তারা ইশতেহার অনুযায়ী সনদ বাস্তবায়ন করবে। তাহলে তো আর সনদের কার্যকারিতা থাকে না। সে জায়গা থেকে গণভোট এসেছে।

প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন হবে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, সে বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকার তা না করে নিজের মতো সংসদ পরিচালনা করেছে। এভাবে করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন আমাদের একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়াবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ভারসাম্য থাকতে হবে। আমলাতন্ত্রসহ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে পলিটিসাইজ করার সুযোগ থাকবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। সেদিনই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। এটার প্রধান অন্তরায় হয়ে পড়েছে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় এসে বসেছেন।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের গণভোটের আদেশ মানেন না এটা চার মাস সময় পেয়েও বলেননি। কেন বলেননি রহস্য এখানেই? জনগণ বুঝে ফেলছে ভূত বিরোধী দলের ওপর নয়, সরকারে ওপর চেপেছে। জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন বলেছেন কিন্তু জনগণের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করবেন সেটা একদিনও বলেননি। জুলাই সনদ ও গণভোটের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে জনগণকে তারা বিভ্রান্ত করছে।

অনুষ্ঠানে এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ক্ষমতার বাহানায় বিএনপি সরকার আর সংস্কার করতে চায় না। তারা ক্ষমতা নিরঙ্কুশ উপভোগ করতে চায়। বিএনপি বারবার নোট অব ডিসেন্টের কথা বলছে। অথচ ঐকমত্য কমিশনে বিষয়টি এমনভাবে এসেছে যে, মূল বিষয়ে সবাই একমত। কারও ভিন্ন কোনো মত থাকলে তা পাশে উল্লেখ করবে। অর্থাৎ নোট অব ডিসেন্ট মুখ্য নয়। তাছাড়া গণভোটের পর বিএনপি’র রাজি-নারাজি আর কোনো মুখ্য বিষয়ই নয়।

এনসিপি’র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ৫ই আগস্টের পর যখন সংবাদমাধ্যম দখল হওয়া শুরু করে, সময়ের পরিক্রমায় সেগুলো কেবল হাত বদল হয়েছে। গণমাধ্যম নিয়ে কাজ করতে গেলে যেকোনো সরকার চিন্তায় পড়ে যায়। এর পরিণতি কি হতে পারে, এটা নিয়ে তারা চিন্তিত হয়ে পড়ে। সাংবাদিকরা, মালিকরা ক্ষেপে যেতে পারে এবং সরকারের বিরুদ্ধে চলে যেতে পারে। এটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও হয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে দুই মাসও যায়নি। এর মধ্যে আমাদের আলোচনা করতে হচ্ছে। জুলাই সনদে ও অধ্যাদেশে রেখে যাওয়া গুম, মানবাধিকার, দুদক, বিচার বিভাগসহ একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাতিল করছে সরকার। কাউন্সিল গঠন করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। যার ফলে প্রতিষ্ঠান স্বাধীন থেকে নির্বাহী বিভাগের বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারবে। কিন্তু সেটিও হয়নি। এগুলো না হলে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠবে। ফলে সরকারকে জুলাই সনদ ও গণভোট মানতে হবে। তা না হলে তারা হাসিনার সরকারের দিকেই ফিরে যাবে।

এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সরকার সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রবণতা থেকে বের হতে পারছে না। সরকার মনে করছে, সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়। কিন্তু এই মানসিকতা সংস্কারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সংসদ ও রাজপথে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে হবে।

কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন- এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, সংসদ সদস্য ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান এবং বিআইবিএসের সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী। কনভেনশনে মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম. মাসরুর রিয়াজ, বিডিজবস ডটকমের সিইও ফাহিম মাসরুর, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ এবং এজএএমসি লিমিটেডের চেয়ারম্যান আসিফ খান। মডারেটর ছিলেন নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।

দ্বিতীয় সেশনে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা: বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনায় সেশন চেয়ার ছিলেন এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সেশনে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ইউনিভার্সিটি অব বৃটিশ কলাম্বিয়ার উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ড. খান জহিরুল ইসলামসহ জ্বালানি ও অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা। মডারেটর ছিলেন এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ।

তৃতীয় সেশনে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার: বর্তমান ঝুঁকি ও করণীয়’ বিষয়ে আলোচনায় সেশন চেয়ার ছিলেন এনসিপি’র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এ সেশনে অংশ নেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী সারা হোসেন, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, অ্যাক্টিভিস্ট জায়মা ইসলাম এবং গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিসসহ অনেকে। মডারেটর ছিলেন এনসিপি’র যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আলামিন। সমাপনী সেশনে ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে জুলাই সনদ, সংস্কার ও গণভোট’ বিষয়ে আলোচনায় সেশন চেয়ার ছিলেন এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

এ সেশনে অংশ নেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।-ডেস্ক


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা