• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ন
Headline
বর্তমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলার মত কিছু নেই: আইনমন্ত্রী ‘যুদ্ধ না থামা পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়’ শাহবাগের বাসা থেকে চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার অভিনয়ের বাইরে নতুন পরিচয়ে ‘কান’ উৎসবে পার্নো স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৪ নাটোরে ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা, স্ত্রী-ছেলে আটক নারী এমপিরা সংসদকে প্রাণবন্ত করবেন: মির্জা ফখরুল মানানসই হয়নি পুলিশের নতুন পোশাক, শার্ট থাকবে আগের মতো প্যান্ট হবে খাকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৮ প্রবাসী জুলাইযোদ্ধাকে ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রুল ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে যে ৫ খাবার এড়িয়ে চলবেন

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা আলোচনায় অচলাবস্থা, বিরক্ত হয়ে ইরানকে খেপাতে ফাঁদ পাতছেন ট্রাম্প

Reporter Name / ১ Time View
Update : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

(আজকের দিনকাল): ইরান ইস্যুতে ‘চুক্তিও নয়, যুদ্ধও নয়’—এমন স্থবিরতায় বিরক্ত ও হতাশ হয়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই অচলাবস্থা ভাঙতে তিনি যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা শেষ পর্যন্ত আবার যুদ্ধের দিকেও গড়াতে পারে। আর ইরানকে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করার জন্য দায়ী করতে ফাঁদ পাতছে যুক্তরাষ্ট্র। উসকানিও দিচ্ছে দেশটি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পদক্ষেপ চান। তিনি বসে থাকতে চান না। তিনি চাপ চান। তিনি একটি চুক্তি চান।’

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্পের সামনে একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়, যেখানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠিয়ে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পথ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তিনি অন্তত শুরুতে তুলনামূলক সতর্ক পথ বেছে নেন।

এদিকে, আজ সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী মার্কিন পতাকাবাহী এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে প্রণালী পার হতে সহায়তা করবে। তাদেরকে মাইন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হবে এবং ইরান আক্রমণ করলে হস্তক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকবে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ নৌ-এসকর্ট দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। এর পরিবর্তে, নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ‘আশপাশে’ অবস্থান করবে এবং প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান।

মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে এই অভিযানে মার্কিন সামরিক সহায়তার মধ্যে থাকবে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ড্রোন, ১০০ টির বেশি স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক বিমান এবং ১৫ হাজার সৈন্য। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এটিকে বর্ণনা করেছে ‘একটি প্রক্রিয়ার শুরু’ হিসেবে, যার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আবারও সরাসরি সংঘর্ষে জড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ওই সূত্রের দাবি, প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে মুক্ত করার এই তথাকথিত ‘মানবিক” মিশনের অর্থ হলো, ‘যদি ইরান কিছু করে, তাহলে তারাই খলনায়ক হবে এবং আমাদের পদক্ষেপ নেওয়ার বৈধতা তৈরি হবে।’

এ ছাড়া, সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী একটি পরিকল্পনা দেন, যেখানে নৌবাহিনীর জাহাজ সরাসরি প্রণালি দিয়ে পারস্য সাগরে পাঠানোর প্রস্তাব ছিল। পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরান প্রতিক্রিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র বা দ্রুতগামী নৌকা পাঠালে যুক্তরাষ্ট্র সেগুলো ধ্বংস করত এবং যদি ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি আরও বাড়িয়ে তুলত, তাহলে পূর্ণ শক্তিতে যুদ্ধ আবার শুরু হতো।

বর্তমান পরিকল্পনাটি তাৎক্ষণিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি কম বহন করে, তবে এতে স্থবিরতা অনেকটাই বজায় থাকতে পারে। অন্যদিকে, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ কীভাবে এগোবে, তা নির্ভর করছে ইরানের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

গত এক সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করা জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি ট্রাম্পের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সতর্কবার্তা। হরমুজ প্রণালীর নতুন সামুদ্রিক ব্যবস্থায় যেকোনো মার্কিন হস্তক্ষেপ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। হরমুজ প্রণালী এবং পারস্য উপসাগর ট্রাম্পের বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিয়ে পরিচালিত হবে না!’

তবে কূটনীতি পুরোপুরি থেমে নেই। ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ এখনও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে খসড়া প্রস্তাব বিনিময় করছেন। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘আলোচনা চলছে। প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। আমরা তাদেরটা পছন্দ করছি না। তারা আমাদেরটা পছন্দ করছে না। সর্বোচ্চ নেতার অবস্থা এখনও পরিষ্কার নয়। আর তারা বার্তা হাতে হাতে গুহায় বা যেখানে তিনি বা যেই লুকিয়ে থাকুন, সেখানে পৌঁছে দিচ্ছে। এতে প্রক্রিয়াটা ধীর হয়ে যাচ্ছে।’

উইটকফ ট্রাম্পকে আলোচনা চালিয়ে যেতে পরামর্শ দিচ্ছেন এবং একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী মূল্যায়ন দিচ্ছেন। তবে অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অনেক বেশি হতাশাবাদী বলে জানিয়েছেন কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘হয় আমরা খুব শিগগিরই একটি বাস্তবসম্মত চুক্তির রূপরেখা দেখতে যাচ্ছি, নয়তো তিনি তাদের ওপর ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করবেন।’-ডেস্ক


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা