(আজকের দিনকাল) :ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নৌ-অবরোধ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া ভবিষ্যৎবাণীকে সরাসরি উপহাস করেছে তেহরান। ওয়াশিংটনের এই কৌশলকে ‘ব্যর্থ’ আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। একইসঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের ভুল নীতির কারণেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন ইরানি স্পিকার।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এরইমধ্যেই ১২০ ডলার ছাড়িয়েছে এবং যা পরবর্তীতে ১৪০ ডলারে পৌঁছাবে বলেও দাবি করেন গালিবাফ।
আজ রাত ২ টা ৫১ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে গালিবাফ লিখেন, ‘ট্রাম্পের ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী তিন দিন পার হলো। কিন্তু ইরানের কোনো তেলকূপ এখনো ‘বিস্ফোরিত’’ হয়নি। একটি কূপও ফাটেনি। আমরা চাইলে এই সময়সীমা ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়িয়ে এখান থেকে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভস্ট্রিম) করতে পারি।’
বেসেন্টরা অবরোধের তত্ত্ব দিয়ে তেলের দাম ১২০ ডলারের ওপরে নিয়ে গেছেন উল্লেখ করে ইরানি স্পিকার বলেন, এখন পরবর্তী তা হবে ১৪০ ডলার। সমস্যা তত্ত্বে নয়, সমস্যা তাদের মানসিকতায়।
মূলত গত ২৬ এপ্রিল ট্রাম্প এক পোস্টে দাবি করেছিলেন যে, তিন দিনের মধ্যে ইরানের তেলকূপগুলো এক বিধ্বংসী প্রক্রিয়ায় বিস্ফোরিত হতে শুরু করবে। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর গালিবাফ বিদ্রূপ করে এমন মন্তব্য করে পোস্টে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর এই অবরোধের ফলে সরবরাহ সংকটে বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, পশ্চিমা দেশগুলো অবরোধের মাধ্যমে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও বাস্তবে এটি বিশ্ব তেলের বাজারকেই অস্থিতিশীল করে তুলেছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের তিন দিনের ‘বিস্ফোরণ’ তত্ত্ব এখন আন্তর্জাতিক মহলে হাস্যরসের খোরাক জোগাচ্ছে।
Leave a Reply