(আজকের দিনকাল):কক্সবাজারের রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে এক মা ও তার শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ খুনিয়াপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, ছেমন আরা (২৫) ও তার দুই বছর বয়সী মেয়ে আসমা বিবি। তারা মো. একরাম মিয়ার স্ত্রী ও সন্তান।
স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল উদ্দিন জানান, হঠাৎ করে তিনটি বন্য হাতির একটি পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। হাতিরা কয়েকটি বসতঘরের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে ফেলতে শুরু করে। এতে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
তিনি আরও জানান, শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী ছেমন আরা। তাদের সঙ্গে ছিল দুই শিশু সন্তান। এ সময় দুটি হাতি তাদের দিকে তেড়ে এলে একরাম মিয়া তার ছয় বছর বয়সী ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে দ্রুত বাড়ির পেছনে গিয়ে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ছেমন আরা ও তার ছোট কন্যা আসমা বিবি হাতির আক্রমণের মুখে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল জানান, হাতির পালটি ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। সামনে পড়ায় মা-মেয়ের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না।
তিনি নিশ্চিত করেন, আক্রান্ত পরিবারটি রোহিঙ্গা নাগরিক। তারা বনবিভাগের জমিতে ঘর তুলে কয়েক বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটির পর হাতির পালটিকে তাড়িয়ে গভীর বনে প্রবেশ করানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন্য হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ জানিয়েছেন, রামু থানা পুলিশ মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছেন। পরে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি অপমৃত্যুর ঘটনা হিসেবে মামলা রুজু করা হবে বলে জানান তিনি।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।-ডেস্ক
Leave a Reply