• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
Headline
নাটোরে ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা, স্ত্রী-ছেলে আটক নারী এমপিরা সংসদকে প্রাণবন্ত করবেন: মির্জা ফখরুল মানানসই হয়নি পুলিশের নতুন পোশাক, শার্ট থাকবে আগের মতো প্যান্ট হবে খাকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৮ প্রবাসী জুলাইযোদ্ধাকে ২৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রুল ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে যে ৫ খাবার এড়িয়ে চলবেন বিসিবি ৬৫০ দিলেও কর্মীরা পান ৩০০ টাকা, দুর্নীতি দেখে ক্ষুব্ধ তামিম সাত দিনের প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন ১০০ শিক্ষক, তালিকা প্রকাশ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিএনপির সংরক্ষিত নারী এমপিদের শ্রদ্ধা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে প্রকল্প অনুমোদন সহজের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা প্রতি মাসে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে পাবেন: কৃষিমন্ত্রী

১৯ কোটি টাকার শিশু হাসপাতাল ৭ বছরেও চালু হয়নি

Reporter Name / ০ Time View
Update : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

(আজকের দিনকাল): বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর প্রায় দেড় হাজার শিশু ভর্তি হয়েছে। দিন দিন এই প্রাদুর্ভাব আরও বাড়ছে। এতে হাসপাতাল দুটিতে শিশু রোগীর ঠাঁই হচ্ছে না। অথচ ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বরিশাল শিশু হাসপাতাল ৭ বছরেও চালু করা যায়নি। গত বুধবার বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার এই হাসপাতাল পরিদর্শন করে দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার তাগিদ দিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সহসাই শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব না।

বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জে শিশুদের জন্য ২০১৭ সালে নির্মাণ করা হয় ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল। নির্মাণকাজে ব্যয় হয় ১৯ কোটি ৪৮ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। চারতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০১৯ সালে এ হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালু হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালেও তা সম্ভব হয়নি। ভবনসহ আরও কিছু অবকাঠামো প্রস্তুত হলেও বিদ্যুতের সাবস্টেশন ও জনবল না থাকায় ৭ বছর ধরে পড়ে আছে হাসপাতালটি। শেবাচিম হাসপাতালের একজন সহকারী পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিশু হাসপাতাল চালু না হওয়ায় শেবাচিমের শিশু ওয়ার্ডকে বাড়তি চাপ নিতে হচ্ছে। কিন্তু এখানে শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ৩৬টি শয্যা আছে। অথচ সেখানে প্রতিদিনই ধারণক্ষমতার চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। একই শয্যায় দুজন, অনেকেই মেঝেতে শয্যা পেতেছে চিকিৎসার আশায়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বরিশালের নবাগত বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান গত বুধবার আকস্মিক শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। এ সময় হাসপাতালের প্রতিটি কক্ষ পরিদর্শন করেন তিনি। অক্সিজেনসহ সব ইলেকট্রনিকস সংযোগগুলো সচলের নিশ্চয়তা যাচাই করেন। বিভাগীয় কমিশনার এ সময় হামের রোগীদের আইসোলেশনের জন্য এটি দ্রুত প্রস্তুত করার তাগিদ দেন সংশ্লিষ্টদের। এর পাশাপাশি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গণপূর্তকে দ্রুত বিদ্যুৎ-সংযোগ স্থাপন, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশনকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য নির্দেশনা দেন।

যদিও বরিশাল সিভিল সার্জন ড. এস এম মঞ্জুর ই-ইলাহী বলেন, শিশু হাসপাতালের জন্য জনবল নিয়োগ হয়নি। ডাক্তার কিংবা প্রশাসনিক স্টাফও দেওয়া হয়নি। বিভাগীয় কমিশনার পরিদর্শন শেষে শিগগিরই শিশু হাসপাতাল চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী চেষ্টা চলছে।

এদিকে শিশু হাসপাতালটি ৭ বছরেও চালু না করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, একই সঙ্গে শুরু হয়ে অন্যান্য জেলার শিশু হাসপাতালগুলো অনেক আগেই উদ্বোধন করা হয়েছে। শুধু বরিশালের হাসপাতালটি পড়ে রয়েছে। শুনেছি গণপূর্ত প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারের অনিয়ম গাফিলতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এটি পড়ে আছে।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ বলেন, দ্রুত এই ভবনে চিকিৎসাসেবা চালুর জন্য অতিরিক্ত জনবল দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, হাসপাতালটি কে পরিচালনা করবে সে রকম কোনো আদেশ এখনো মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়নি। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া শিশু হাসপাতালে রোগী ভর্তি করে সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, শিশু হাসপাতালের ধারণক্ষমতা ২০০ বেডের। কিন্তু এখন পর্যন্ত চিকিৎসক, নার্স, স্টাফ নিয়োগই দেওয়া হয়নি। বিদ্যুৎ-সংযোগ থাকলেও সাবস্টেশন নেই। অবকাঠামোরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে এখনো। তবে হাসপাতালটি যে চালু করা দরকার, সে বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ সরকারের সব দপ্তর অবগত আছে।-ডেস্ক


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা