(আজকের দিনকাল) :বাংলাদেশ পুলিশের জন্য এই মুহূর্তে আলাদা এভিয়েশন ইউনিট বা এভিয়েশন সার্ভিস গঠনকে বাস্তবসম্মত মনে করছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নতুন ইউনিট গঠনের আগে বিদ্যমান সক্ষমতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।
আজ সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগের সরকারের সময় বাংলাদেশ পুলিশের জন্য রাশিয়া থেকে দুটি এম আই-১৭ হেলিকপ্টার কেনা হলেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থ লেনদেন জটিলতায় সেগুলো এখনো দেশে পৌঁছায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট দেশের ক্লিয়ারেন্স পাওয়া গেছে এবং শিগগিরই হেলিকপ্টার দুটি সরবরাহ পাওয়া যেতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হেলিকপ্টার হাতে পেলেই তো হবে না, সেটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতাও থাকতে হবে। এম আই-১৭ পুলিশ এখন মেনটেইন করতে পারবে কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।
হেলিকপ্টারগুলো দেশে এলে সেনাবাহিনীর সহায়তায় রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রয়োজনে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী হেলিকপ্টার সমন্বয়ের ব্যবস্থাও করা হতে পারে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
বর্তমানে র্যাবের একটি হেলিকপ্টার থাকলেও সেটির রক্ষণাবেক্ষণ সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজশাহী সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই হেলিকপ্টারে উঠতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেননি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিজিবির দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে একটি প্রায়ই রক্ষণাবেক্ষণে থাকে, আর অন্যটি অচল অবস্থায় রয়েছে। এ বাস্তবতায় নতুন করে আলাদা এভিয়েশন ইউনিট গঠনের চেয়ে বিদ্যমান সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু মর্যাদার জন্য কোনো সংস্থার হেলিকপ্টার দরকার হলে সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু আমাদের আগে বাস্তব সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।’
তবে ভবিষ্যতে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছালে এভিয়েশন ইউনিট গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।