(আজকের দিনকাল) :বগুড়ায় এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে, সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক, ৯৫ শতাংশ সাংবাদিককে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ,
সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্যের নাম কনস্টেবল মানিক। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একটি অনিয়মের চিত্র মোবাইল ফোনে ধারণ করার সময় এশিয়ান টিভির উত্তরাঞ্চল ব্যুরো প্রধান, গ্লোবাল টিভির উত্তরাঞ্চল ব্যুরো প্রধান এবং জনতা টিভি নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কনস্টেবল মানিকের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অবজ্ঞাসূচক ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যমূলক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কনস্টেবল মানিক বলেন—
“ক্যামেরা ছাড়া সাংবাদিক হওয়া যায় না, ৯৫ শতাংশ সাংবাদিকের ক্যামেরা কেনার টাকাই নেই।”
এ ধরনের বক্তব্যকে সাংবাদিক সমাজের প্রতি চরম অসম্মানজনক ও অপমানজনক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল সাংবাদিকতা যখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত, তখন একজন নিম্নপদস্থ পুলিশ সদস্যের এমন মন্তব্য নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, একজন কনস্টেবলের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা নিয়ে কটাক্ষ করা নয়। তারা বলেন, ক্যামেরা বা মোবাইল নয়—সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো তথ্য, সত্য ও পেশাদারিত্ব। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকতার মাধ্যমও বদলেছে। বর্তমানে দেশের বহু জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমেও মোবাইল জার্নালিজম গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন সাংবাদিক জানান, একজন কনস্টেবল হয়ে কীভাবে তিনি দেশের “৯৫ শতাংশ সাংবাদিক” সম্পর্কে এমন মন্তব্য করার সাহস পেলেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তার এই বক্তব্যের পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের আশ্রয় বা ক্ষমতার অপব্যবহার রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে কনস্টেবল মানিকের বিরুদ্ধে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বিষয়টি রাজশাহী রেঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মত, সাংবাদিক ও পুলিশের সম্পর্ক হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার। কারণ রাষ্ট্র ও সমাজের স্বার্থে উভয় পেশাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধান করাই সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে প্রত্যাশিত।