• সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন
Headline
মোহাম্মাদপুরে সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছিলাম, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুরি হয়ে গেছে: ববি হাজ্জাজ যশোরে ৭ কোটি টাকার স্বর্ণসহ দুই পাচারকারী আটক মুন্সীগঞ্জের ফুলদী নদীতে সেতুর আশ্বাস, গজারিয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন মির্জা ফখরুল বেনজীরকে ফেরাতে দুবাইয়ে প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৬ দিনের সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, যা থাকছে সফরসূচিতে বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ, সম্পর্ক জোরদারের আশাবাদ নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারের বেনাপোলে বাংলাটিভির সাংবাদিকের ওপর হামলা পার্বতীপুরের মৌলভীর ডাঙ্গা শাহী জামে মসজিদে ওয়াকফকৃত জমি থাকলেও নেই সংস্কারে আর্থিক অনুদান ৭৪ ভোটের ৭৩টি তামিমের, হলেন বিসিবি সভাপতি পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল ও তাঁর স্ত্রীর ফাঁসির রায়

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা: ৪১ ভোটকেন্দ্রের টাকা নয়ছয়

Reporter Name / ৩৯ Time View
Update : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

(আজকের দিনকাল):ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্র মেরামতের জন্য ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার ৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ৩৭ লাখ টাকা। সেই টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৃষ্ণ চন্দ্র ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কবিতা নন্দীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে জেলা শিক্ষা অফিস।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের লক্ষ্যে সারা দেশে কেন্দ্র মেরামতের উদ্যোগ নেয় সরকার। এর ধারাবাহিকতায় মুক্তাগাছা উপজেলায় ৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভাঙা দরজা-জানালা, দেয়াল, ছাদ ও বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতে ৩৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়গুলোকে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। সেই কাজ তদারকির দায়িত্ব ছিল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবিতা নন্দীর। বরাদ্দের টাকাও তোলা হয় কবিতা নন্দীর সইয়ে।

অপর দিকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে আলাদা বরাদ্দে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কথা ছিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজের বরাদ্দের টাকা খরচ না করে শিক্ষা কর্মকর্তাকে চাপ দিয়ে মেরামতের টাকা থেকে সিসি ক্যামেরা কিনিয়েছেন। যার ফলে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে মেরামতের কাজ হয়নি।

সম্প্রতি আরফান আলী পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা জরাজীর্ণ কক্ষে বসে ক্লাস করছে। খসে পড়ছে দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা। অথচ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে মেরামত বাবদ প্রতিষ্ঠানটি বরাদ্দ পায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বরাদ্দের এক টাকাও কোনো খাতে খরচ করা হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফাতেমা বেগম বলেন, বরাদ্দের টাকায় সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। তবে ক্লাসরুম সংস্কার করা হয়নি। সিসি ক্যামেরা লাগানোর জন্য তো আলাদা বরাদ্দ ছিল—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তা ছাড়াও একটি পানির পাইপ লাগানো হয়েছে। এর চাইতে বেশি কিছু বলতে পারব না।’

গাড়াইকুটি দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রতি গিয়েও কোনো কাজের নমুনা পাওয়া যায়নি। যদিও মেরামতের জন্য বরাদ্দের ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। তবে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক ফাতেমা খাতুনকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ায় কোনো কোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দরজা-জানালা মেরামতের কাজ করেছেন। সত্রাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রতি গিয়ে দেখা যায়, দরজা-জানালা লাগানো ও শ্রেণিকক্ষ পলেস্তারা করা হয়েছে।

এ নিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কবিতা নন্দী বলেন, ‘মেরামতের জন্য বরাদ্দের টাকা চাপ প্রয়োগ করে উত্তোলন করিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়গুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করিয়েছেন। এখন আমি চাপের মধ্যে পড়েছি। আমাকে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, মেরামতের দায়দায়িত্ব উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার। সেখানে কেন আমাকে জড়ানো হচ্ছে বুঝতেছি না। উনি (শিক্ষা কর্মকর্তা) ওনার মতো করে বিল ছাড় দিয়েছেন, কেউ যদি কাজ না করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। আর সিসি ক্যামেরা স্থাপনে ওনার (শিক্ষা কর্মকর্তা) কাছ থেকে কোনো ধরনের সুবিধা নেওয়া হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা